মনিরুল ইসলাম মনির :
মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সবজি ক্ষেতের পোকা দমনে কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার হচ্ছে সেক্স-ফেরোমন পদ্ধতি। ক্ষেতের পোকা দমনে বিপুল উৎসাহে কৃষক এখন এ পদ্ধতিই ব্যবহার করছে। বেগুন, ঢেঁড়শ, ঝিঙ্গা, ঝাল, সীম, কুমড়াসহ বিভিন্ন শাকসবজির পোকা দমনে এ ফাঁদ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সেক্স ফেরোমন পদ্ধতিতে স্ত্রী পোকার গন্ধ পেয়ে পুরুষ পোকা ছুটে এসে সাবান জলে পড়ে মারা যায়। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করার জন্য কৃত্রিম উপায়ে তৈরি স্ত্রী পোকা কর্তৃক বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও গন্ধযুক্ত যে জৈব পদার্থ নিঃসৃত হয় তাই সেক্স ফেরোমন। যা দেখতে একটা তাবিজের মতো। গোলাকার একটি প্লাস্টিকের পাত্র দিয়ে এই ফাঁদ তৈরি করা হয়। পাত্রটির তলায় থাকা পানির উপরে ফাঁদটি ঝুলিয়ে দেয়া হয়। বেগুন ও কুমড়া জাতীয় ফসলের মাছি পোকা, ডগা ও ফলছিদ্রকারী পোকা দমনের জন্য কৃষকেরা একে যাদুর ফাঁদ বলেন।
আদুরভিটি কৃষক নূর নবী বলেন, আগে লাউ, কুমড়া ও বেগুন ক্ষেতের ফল নষ্ট হয়ে যেত। মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন কাজ হতো না। উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এসএম সৈয়দ হোসেন ও উপ-সহকারীকৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের পরামর্শে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় বেগুন ও লাউ কুমড়ার ফল নষ্ট হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন এবং পরিবেশ বাদ্ধব কৃষির জন্য উপজেলার ছেংগারচর পৌরসসভাসহ ১৪টি ইউনিয়নে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে এর সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সেক্স ফেরোমন ব্যহারে খুবই কম খরচ হয়। আড়াই কাঠা জমিতে মাত্র ১২০ টাকা খরচ করলেই চার মাস চলে যায়। সেখানে কীটনাশক ব্যবহার করতে প্রায় ৭০০ টাকা খরচ পড়ে।
