ইল্শেপাড় রিপোর্ট
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপি গতকাল সন্ধ্যায় দলটির চেয়ারপার্সনের গুলসানান্থ কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের ও দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। পরে রাত ৯টায় একই কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের নিয়েও আরেকটি বৈঠক হয়। উভয় বৈঠকেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
তবে কেন্দ্রীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের এক বার্তায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তারা এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে দলটির আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাপে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণের এমন সিদ্ধান্ত নেয়।
দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দাবি করছে, গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো আর ওয়াকওভার না দিয়ে ইস্পাত দৃঢ় দলীয় ঐক্যর মাধ্যমে দেশের গণমানুষের ভোটাধিকার ও গণরায় জয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য মামলা-হামলায় জর্জরিত লাখ লাখ নেতাকর্মীরা নির্বাচনে প্রশাসনিক ও শাসকদলীয় সব ধরনের কারচুপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। যাতে মানুষ তাদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে আসে।
এদিকে ২০ দলের শীর্ষ নেতা ও নীতিনির্ধারক সাবেক মন্ত্রী কর্নেল অব. অলি আহম্মেদ গতকাল শনিবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, ২০ দলীয় জোট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি ২ দিনের মধ্যে দেশবাসী জানতে পারবে।
ফলে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ও দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন সফল করতে। তারা এবারের নির্বাচনে শপথ নিয়েই ভোটের মাঠে নামবে বলে দলের শীর্ষ নেতাদের জানিয়েছে।
এদিকে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের লন্ডনের বার্তায় চলমান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার বার্তায় দলীয় সিদ্ধান্ত পরিস্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারেক রহমান দলের নীতিনির্ধারকের আরো নির্দেশ দিয়েছেন ৩শ’ আসনের বিপরীতে ২৫০ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী, ৩০টি আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ২০টি আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীও সমন্বয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য।
এছাড়া তারেক রহমান আরো নির্দেশ দিয়েছেন, ২০ দলীয় জোটের সব প্রার্থী’ই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য। কেবলমাত্র জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা তাদের দলীয় প্রতীক কিংবা স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। কেবল ঐক্যফ্রন্ট নেতারা ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলে তারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে তিনি অভিমত দিয়েছেন।
তারেক রহমানের লন্ডনের ঐ বার্তায় দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সরকারের কোন অপকৌশলের পাতা ফাঁদে যেন কোনভাবেই পা না দেয়া হয়।
তারেক রহমান দলের নেতাদের আরো বার্তা দেন, এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের নির্বাচনে জয়লাভ করলে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতেই সরকার গঠন করবে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়া আগামিতে দেশে কোন প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির চর্চা যাতে দেশে না হয় সেই পরিবেশ নিশ্চিত করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এতে করে আগামিতে দেশে ক্ষমতার ভারসাম্য ও সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চার পরিবেশ ফিরে পাবে দেশের মানুষ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের এমন বার্তা, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ইতিবাচক নির্বাচনী সিদ্ধান্তে দেশের রাজনীতির ও ভোটের মাঠ সরগরম হয়ে উঠবে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছে। যা দেশের গত এক দশকের রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হতে যাচ্ছে…?
