কুমিল্লা ব্যুরো
আইডিয়েল কো-অপারেটিভ লিমিটেড (আইসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচএনএম শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী শামছুন্নাহার মিনাকে ৫ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেছে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ঢাকা পল্টন থানায় দায়ের করা অর্থ আত্মসাৎ মামলায় মঙ্গলবার (১ জুন) সিএমএম আদালতে রিমান্ড চাইলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মো. শফিউর রহমান নামে আইসিএলের এক গ্রাহক তার ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা পল্টন থানায় আইসিএ’র এমডি শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী শামছুন্নাহার মিনা ও শ্যালক ফখরুল ইসলামের নামে মামলা করেন।
আইসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচএনএম শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী শামছুন্নাহার মিনাকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব-৪, রাজধানীর বাংলামটর বাসা থেকে। গত ২৬ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, আইসিএল শফিকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও অপহরণের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শফিক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট ও সাজা রয়েছে। তিনি বেশি লাভের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রাহকদের টাকাসহ লভ্যাংশ ফেরত চাইতে গেলে হুমকি-ধমকিসহ অপহরণ করতেন। আগেও আমানত গ্রাহকের মামলায় তিনি ও তার স্ত্রী আটক হয়েছিলেন বলে র্যাব জানায়। গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার সাজা রয়েছে তাছাড়া প্রায় ২৫টি মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি তিনি। তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের শতাধিক মামলা রয়েছে।
এদিকে আইসিএল শফিক গংদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি এবং গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দেয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। মানববন্ধনে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতারক সফিকের সর্বোচ্চ শাস্তি ও গ্রাহকদের টাকা ফেরত পেতে সহযোগিতা কামনা করেন।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, লাখ লাখ মানুষের থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আইসিএসএল এমডি শফিক দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়েছেন। মালয়েশিয়ার পেনাং শহরে তার রাজকীয় বাড়ি রয়েছে, সেখানকার সেকেন্ড হোম নিয়েছেন তিনি। নেপালে গড়েছেন বিশাল আকারের কমলার বাগানও।
লাখো মানুষকে পথের ভিখারি বানানোর খলনায়ক আইসিএসএল এমডি শফিকুর রহমান ৫ লক্ষাধিক মানুষের আমানত প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অফিযোগে প্রকাশ। তার প্রতারণার শিকার লাখো মানুষের অসহায় আহাজারিতে জেলা-উপজেলা থেকে প্রত্যন্ত এলাকার বাতাসও ভারী হয়ে উঠেছে। সর্বস্বহারা মানুষের বুক চাপড়ানো আর্তনাদ শুনলে যে কারোর চোখ ভিজে উঠছে। কারও পেনশনের টাকা, কারও ব্যাংকে জমানো শেষ সম্বল, কেউবা নিজের শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে সমুদয় টাকা তুলে দিয়েছিলেন আইডিয়েল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (আইসিএসএল) কোষাগারে।
শফিকুর রহমান সে টাকা জমা নিয়েই জানিয়েছিলেন আইসিএসএলের আমানত ও ডিপোজিট স্কিম প্রকল্পে বিনিয়োগ হিসেবে গৃহীত টাকার লভ্যাংশ পাবেন ঘরে বসেই। লোভনীয় লাভের প্রস্তাবে সবাই স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু লাভ দূরের কথা, বিনিয়োগের টাকাগুলোই যে শফিক গিলে খাবেন তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি কেউ।
০২ জুন, ২০২১।
