নবী নোমান :
ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের আশ্বাস দিয়েও না করায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা গতকাল বুধবার দুপুরে বিদ্যালয় ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ভাঙচুর ও অবরুদ্ধ করার রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। যদিও পুলিশের দাবি বিদ্যালয়টি পিএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ায় তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ছত্রভঙ করে দেয়।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ধানুয়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় ১০৫জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৩ জনকে ফরম পূরণের সুযোগ দেন প্রধান শিক্ষক। একই সাথে নির্বাচনী পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণদের ফরম পূরণ নিয়ে প্রধান শিক্ষক তাদের বারবার আশ্বাস দেয়। ম্যানেজিং কমিটিও সিদ্ধান্ত দেয়, যারা এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে ফরম পূরণের জন্য।
কিন্তু প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান তাদের সেই সিদ্ধান্ত না মেনে গত ১৮ নভেম্বর গোপনে মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে অন্যরা। তারা স্কুলের গেট ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা মারে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং সেই সময়ে উপস্থিত লোকজন ফরম পূরণের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পায়। কিন্তু এরপর থেকে প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে ক্রমেই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
স্থানীয়রা আরো জানায়, গতকাল বুধবার প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসার কথা শুনে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা স্কুলের বাইরে ভিড় জমায়। পরে ওই কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পিএসসি পরীক্ষা শেষে দুপুর ২টার দিকে পরীক্ষার খাতা নিয়ে কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মহিলা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাকসুদা আক্তার বিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় বাঁধার সম্মুখীন হয়। পরে তারা স্কুলে ফিরে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নিরাপত্তার বিষয়টি জানালে ইউএনও’র নির্দেশে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এক পর্যায়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষ অবরুদ্ধ করে রাখে।
পুলিশ উপস্থিত হয়ে প্রধান শিক্ষককের রুম অবরুদ্ধ দেখে শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় সাইফুল ও ঝুটনসহ ৪/৫ জন পরীক্ষার্থী আহত হয়। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে পরীক্ষার খাতা নিয়ে আসে এবং ঝুটন দাস নামে একজন পরীক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে আসে।
এতে আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বিদ্যালয়ের ভিতরে বিক্ষুব্ধ অবস্থায় অবস্থান করে। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, শামীম নামে একজন শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে সামান্য আহত হন।
পরে পরিস্থিত জটিল পর্যায়ে পৌঁছানোর সংবাদে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সুরাহার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
মিজানুর রহমানসহ কয়েক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষককের কারণে বিদ্যালয়ে আজ জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি কারো কথা মানেন না।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ডা. মোনায়েম খান বলেন, প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মানেননি। তার একঘেয়েমির কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান জানান, বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফরম পূরণ সম্পন্ন হয়েছে। ইচ্ছা থাকা সত্বেও বোর্ড কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নোটিশের কারণে তিনি বিশেষ পরীক্ষা নিলেও কিছু করতে পারেননি। তাছাড়া গত ২০ নভেম্বর ফরম পূরণের সময় অতিবাহিত হয়েছে। বুধবার তিনি পিএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিয়ে চলে আসার পর তার কক্ষের আসবার-পত্র ভাঙচুর হয়েছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও পিএসসি পরীক্ষার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাকসুদা আক্তার বলেন, পরীক্ষা শেষে উত্তর পত্র নিয়ে বের হওয়ার সময় পরিস্থিতি দেখে নিরাপত্তার কথা ভেবে ইউএনওকে পুলিশ পাঠানোর জন্য বলেছি। পরে পুলিশ এসে ব্যবস্থা নিয়েছে।
থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কুমার দাশ জানান, বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরন নিয়ে ইতোপূর্বে সমস্যা ছিলো। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও পিএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রের নিরাপত্তার কথা ভেবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম মাহফুজুর রহমান জানান, পিএসসি পরীক্ষার উত্তর পত্র নিয়ে আসার বিষয় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলায় তিনি সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছেন।
- Home
- প্রথম পাতা
- এসএসসির ফরম পূরণের দাবিতে ফরিদগঞ্জে শিক্ষার্থীদের কক্ষ ভাঙচুর পুলিশের লাঠিচার্জ