ভ্রাম্যমাণ আদালতে উচ্ছেদের পরও

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মূল সড়কের নিচ দিয়ে ড্রেজার পাইপ বসিয়ে সড়ক ধ্বংস করছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে গত ২৩ ডিসেম্বর ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানার নেতৃত্বে ড্রেজারটি উচ্ছেদ করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কিছুদিন পরই আবার একই জায়গা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের নিচ দিয়ে সুরুঙ্গ তৈরি করে পাইপ স্থাপন করে অবাধে বালুর ব্যবসা করে যাচ্ছে মারুফ মজুমদার গং। উচ্ছেদের আগে এটি সড়কের কিনারে পাইপ স্থাপন করে রাস্তার সুরুঙ্গ করে পাইপ বসায়। উচ্ছেদের পর একই স্থানে সুরুঙ্গ করে একটি সরকারি অফিসের জায়গা ব্যবহার করে বালুর ব্যবসা করে যাচ্ছে। বর্তমানে ঐ অফিসের নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সড়ক ও জনপথ অজ্ঞাত কারণে নীরব রয়েছে।
জানা যায়, চাঁদপুর শহরের ১৪নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা গেট সংলগ্ন মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প অফিসের সম্মুখ স্থানের সড়কে স্থানীয় মারুফ মজুমদার ওরফে মারুফ মিস্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মহল তাদের স্বীয় স্বার্থ হাসিল করার জন্যে দীর্ঘদিন যাবৎ বালু ব্যবসার নামে ড্রেজার পাইপ বসিয়ে বিভিন্ন ভূমি ভরাট করছে। তারা আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে ঐ স্থানে সড়কের কার্পেটিং এবং মাটি কেটে সুড়ঙ্গ তৈরি করে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে পাইপ নিয়ে মাটি ভরাট করছে। এতে করে রাস্তার মাটি সরে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, রাস্তা ভেঙ্গে যানবাহন চলাচল ও জনসাধারণের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ারও উপক্রম হয়েছে। এটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন রাস্তা হলেও কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এ অপতৎপরতা রোধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যে কারণে স্থানীয় জনসাধারণের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
এ সড়ক দিয়ে প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করলেও গুটিকয়েক লোক ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্যে জনস্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সড়কটির এতো বড় ক্ষতি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়নি। দিনের আলোতে প্রকাশ্যে এ অবৈধ এবং অনৈতিক কাজ চললেও এটি যেনো কারো চোখেই পড়ছে না।
জানা যায়, স্থানীয় মারুফ মজুমদার ওরফে মারুফ মিস্ত্রী গং মৈশাদী ও খলিশাডুলীসহ ঐ এলাকায় দলীয় প্রভাব এবং প্রশাসনের দু’একজন ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে সাধারণ জনগণকে হুমকি-ধমকি দিয়ে দীর্ঘদিন এ এলাকায় ড্রেজিং বা বালু ভরাটের কাজ করছেন। এদের কাছে সাধারণ জনগণ অনেকটাই জিম্মি। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথকে দীর্ঘদিন থেকে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও টনক নড়েনি কারোই।
