চাঁদপুর নৌ-থানার পাশে হচ্ছে কী?

স্টাফ রিপোর্টার
গত ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর-আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা সরকার নিষিদ্ধ করার পরও অসাধু জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ নিধন করছে। চাঁদপুর নৌ-থানার প্রায় ৫০ গজ পশ্চিমাংশে মেঘনা নদীর ক্যানেল থেকে প্রতিনিয়তই পুলিশের সাথে হাত করে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি জেলে নৌকা অবাধে নদীতে মা ইলিশ নিধন করতে ছুটে যাচ্ছে।
সরজমিনে গতকাল মঙ্গলবার দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু করে সাড়ে ১২টার মধ্যে এই ক্যানেল থেকে প্রায় ২৮টি মাছ ধরার নৌকা নদীতে দ্রুতগতিতে ছুটে চলছে। আলী হোসেন নামের এক জেলে এর নেতৃত্ব দিয়ে নদীতে মা ইলিশ নিধন করতে মহোৎসবে মেতে উঠেছে।
একটি সূত্র থেকে জানা যায়, চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে টোকেনের বিনিময়ে নাকি এসব জেলেরা মা ইলিশ আহরণে ১ ঘণ্টার নদীতে নামছে। এরা নৌ-থানা পুলিশকে মাছ ধরার জন্য মোটা অংকের টাকাও নাকি দিচ্ছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, নৌ-থানার কিছু পুলিশ অফিসার জেলেদের সাথে টোকেন বাণিজ্য করে তাদের নদীতে নামতে সহায়তা করছে। যদি চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশকে ম্যানেজ করা না হয় তাহলে পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে এসব জেলেরা কেমন করে সাহস পায় নদীতে মা ইলিশ নিধনের জন্য। যারা নদীতে মাছ আহরণের জন্য নামছে সেইসব জেলেরাই দেখা যায়, নৌ পুলিশ অভিযান করে আসলে থানার আশে পাশের ঘুরঘুর করতে। যখন নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় তখন ওইসব জেলেরাই সাধু সেজে তেল ব্যবহার করে আগুন পুড়িয়ে থাকে।
আরো দেখা যায়, নদীতে অভিযান করে মা ইলিশ জব্ধ করে নিয়ে আসলে নৌ-থানার পুলিশরাই মাছ নিয়ে ছুটাছুটি করে। এতে করে চাঁদপুর নৌ-থানার মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান সফলতার চেয়ে দুর্নামই বেশি হচ্ছে।
চাঁদপুর নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবু তাহের জানান, আমরা প্রতিনিয়তই নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তবে কোন জেলে যদি নদীতে আমাদের অগোচরে মা ইলিশ নিধন করতে যায় আমরা অভিযান চলাকালে তাদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করেছি।