চাঁদপুর পুলিশের সাথে জেলেদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২


এস এম সোহেল
মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকা সত্বেও থামছে না ইলিশ নিধন। ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার এলাকায় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা সরকার নিষিদ্ধ করেছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে আদাজল খেয়ে মাঠে নামলেও অসাধু জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মা ইলিশ নিধন করছে।
গত রোববার দিবাগত রাত ১টা থেকে চাঁদপুর নৌ-পুলিশের এসপি জামশের আলীর নেতৃত্বে পুলিশ মেঘনা ও পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। গতকাল সোমবার ভোর ৬টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে অভিযান চলাকালে স্থানীয় জেলেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে নৌ-পুলিশের এসআই জাকির হোসেন, নায়েক দেলোয়ার হোসেন, কনস্টেবল শাহরিয়ার, নৌ-থানার মাঝি রুবেল (২৬) আহত হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৫ রাউন্ড সর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে ২ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। আহত জেলে ও পুলিশদের উদ্ধার করে চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চাঁদপুর নৌ-পুলিশের এসপি জামশের আলী জানান, আমরা রাত ১টা থেকে নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানে নেমেছি। সকাল ৬টায় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে অভিযানকালে অসাধু জেলেরা আমাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। তখন পুলিশ সদস্যরা নিজেদের রক্ষার্থে ৫ রাউন্ড সর্টগানের গুলি ছুড়ে। জেলেদের হামলায় আমাদের পুলিশ ও মাঝিসহ ৫ জন আহত হয়। পুলিশের সর্টগানের গুলিতে ২ জেলে আহত হলে তাদের উদ্ধার করে আমরা চিকিৎসার জন্য পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে রেখেছি। এ সময় ৬টি নৌকা ও ১৫ জন জেলেকে আটক করেছি।
আটকরা হলো- রুহুল আমিন (২০), ছাত্তার (২১), হাবিব খান (৩২), ইব্রাহিম (১৮), জসিম (২২), কাউসার (২১), বিজয় (১৮), আইনুল হক (৬০), আল-আমিন (১৮), মিলন বেপারী (৪৫), আমির হোসেন (৫০), সবুজ (২৬), সামছুদ্দিন (১৮), চারু গাজী (৪৫) ও কামাল হোসেন (৩৮)।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ২ জেলে হলো- শরীয়তপুর জেলার চরউনচল্লিশের মনির শেখ (৩৫) ও রাজরাজেশ্বরের নাজমুল হোসেন শেখ (২০)। আটকদের বিরুদ্ধে পুলিশের উপর হামলা ও মৎস্য আইনে পৃথক মামলা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর, ২০১৯।