চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে ৬৭ প্রার্থীর লড়াই

ইলশেপাড় রিপোর্ট
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন। উৎসবমুখর এ নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ প্রার্থীসহ ১৫টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর ও ৫টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ৬৭জন প্রার্থী চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধে লড়ছেন। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, ১৫টি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫০ জন আর মহিলা কাউন্সিলরের ৫ পদের বিপরীতে ১৪ জন প্রার্থী হয়েছেন। সব প্রার্থীই তাদের প্রচার-প্রচারণা শেষ করে এখন জয়ের মালা নিয়ে দায়িত্ব পালনের অপেক্ষায়।
গত ২৯ মার্চ চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার মৃত্যুতে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে নির্বাচনী পুনঃতফসিলে কাউন্সিলর প্রার্থীরা নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল বা প্রত্যাহার করার সুযোগ না থাকায় অনেকে সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারেননি। ফলে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কালক্ষেপণ হলে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে সৃষ্টি হয় স্থবিরতা। তারপরও আজকের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ৫ বছর পর চাঁদপুর পৌরবাসী পাচ্ছে নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরদের।
মেয়র পদের ৩ প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি (ধানের শীষ) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল (হাতপাখা)।
চাঁদপুর পৌরসভার ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন ৫০ জন। তারা হলেন- ১নং ওয়ার্ডে ৩ জন। মোহাম্মদ আলী মাঝি (উটপাখি), নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারী (পাঞ্জাবী) ও মোহাম্মদ আসলাম তালুকদার (পানির বোতল)।
২নং ওয়ার্ডে ৩ জন। তারা হলেন- মো. সিদ্দিকুর রহমান ঢালী (পাঞ্জাবী), মো. মালেক শেখ (উটপাখি) ও মো. সাইফুল ইসলাম (ডালিম)।
৩নং ওয়ার্ডে ৩ জন। তারা হলেন- মো. লতিফ গাজী (পানির বোতল), মো. শহিদুল ইসলাম (উটপাখি) ও মো. শাহাদাত হোসেন (গাজর)।
৪নং ওয়ার্ডে ২ জন। তারা হলেন- আব্দুর রহমান মিয়াজী (পাঞ্জাবি) ও মামুনুর রহমান দোলন (টেবিল ল্যাম্প)।
৫নং ওয়ার্ডে ৪ জন। তারা হলেন- মো. আলমগীর মিয়াজী (ডালিম), মো. ইব্রাহিম ঢালী (ঢেঁরশ), মেহেদী হাসান বাচ্চু হাজি (ব্রিজ) ও মো. সাইফুল ইসলাম (উটপাখি)।
৬নং ওয়ার্ডে ৩ জন। তারা হলেন- মো. সোহেল রানা (উটপাখি), বি এম নজরুল (ডালিম) ও বিপ্লব চক্রবর্তী (পাঞ্জাবী)।
৭নং ওয়ার্ডে ৩ জন। তারা হলেন- আলী আহম্মদ সরকার (পাঞ্জাবি), মোহাম্মদ জিয়া প্রধানিয়া (ডালিম) ও মো. শফিকুল ইসলাম (উটপাখি)।
৮নং ওয়ার্ডে ৪ জন। তারা হলেন- মো. আবুল কালাম আজাদ (ডালিম), মো. আলমগীর হোসেন (উটপাখি), মো. হেলাল হোসেন (ব্ল্যাকবোর্ড) ও হোসেন গাজী (পাঞ্জাবী)।
৯নং ওয়ার্ডে ৩ জন। তারা হলেন- মো. চান মিয়া মাঝি (উটপাখি), মো. বিল্লাল হোসেন মাঝি (পাঞ্জাবী) ও মো. সেলিম মোল্লা (টেবিল ল্যাম্প)।
১০নং ওয়ার্ডে ৬ জন। তারা হলেন- খোকন মজুমদার (ব্ল্যাকবোর্ড) দেওয়ান মো. শাহজাহান (টেবিল ল্যাম্প), মো. আরিফুর রহমান (পাঞ্জাবী), মো. ইউনূছ শোয়েব (পানির বোতল), মো. ইউসুফ মিয়াজী (ডালিম) ও মো. গিয়াস উদ্দিন (উটপাখি)।
১১নং ওয়ার্ডে ৩ জন। তারা হলেন- মো. ইকবাল হোসেন (পাঞ্জাবী), মো. জয়নাল আবেদীন বেপারী (পানির বোতল) ও মো. মাইনুল ইসলাম পাটওয়ারী (উটপাখি)।
১২নং ওয়ার্ডে ২ জন। তারা হলেন- মো. হাবিবুর রহমান (উটপাখি) ও শরীফ উদ্দিন আহমেদ (ডালিম)।
১৩নং ওয়ার্ডে ৫ জন। তারা হলেন- এবিএম আরিফ ইকবাল তালুকদার (ব্ল্যাকবোর্ড) গাজী মো. শাহজাহান (ডালিম), মো. আলমগীর গাজী (ফাইল কেবিনেট), মো. ফেরদৌস গাজী (পাঞ্জাবী) ও মো. শফিকুর রহমান পাটওয়ারী (পানির বোতল)।
১৪নং ওয়ার্ডে ৪ জন। তারা হলেন- মো. খাইরুল ইসলাম নয়ন (পাঞ্জাবী), মো. মহসিন মজুমদার (ডালিম), মো. লোকমান মজুমদার (টেবিল ল্যাম্প) ও মো. হারুনুর রশীদ মজুমদার (উটপাখি)।
১৫নং ওয়ার্ডে ২ জন। তারা হলেন- আব্দুল মালেক বেপারী (ডালিম) ও মো. কবির হোসেন চৌধুরী (উটপাখি)।
সংরক্ষিত ৫টি মহিলা কাউন্সিল ওয়ার্ডে প্রার্থী হলেন ১৪ জন। ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে ৩ জন। তারা হলেন- ইসিতা বেগম (আনারস), ফারজানা আক্তার (জবা ফুল) ও ফেরদৌসী আক্তার (চশমা)।
৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে ২ জন। তারা হলেন- খালেদা খানম (জবা ফুল) ও মোসাম্মৎ শাহনাজ আলমগীর (আনারস)।
৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে ৪ জন। তারা হলেন- আয়সা বেগম (টেলিফোন), মিসেস ফরিদা ইলিয়াস (চশমা), মোসাম্মৎ মনি বেগম (জবাফুল) ও শরীয়তুন্নেসা শিল্পী (আনারস)।
১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডে ২ জন। তারা হলেন- আয়েশা রহমান (আনারস) ও রেবেকা সুলতানা বকুল (চশমা)।
১৩, ১৪ ও ১৫নং ওয়ার্ডে ৩জন। তারা হলেন- মোসাম্মৎ শাহিনা বেগম (জবাফুল), মোসাম্মৎ খাদিজা আক্তার (চশমা) ও শাহানারা বুলবুল হোসেন (আনারস)।
উল্লেখ্য, ১৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে আ.লীগ ও বিএনপি দলগতভাবে ১ জন করে প্রার্থী ঘোষণা করছে। ফলে নির্বাচনে যারে বিজয়ী হবেন মূলত তারা দলগতভাবে বিজয়ী হবেন। তবে কোন কোন ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থীও জয়লাভ করতে পারে বলে ভোটাররা জানান। এখন দেখার পালা চূড়ান্ত পর্যায়ে দলগতভাবে কতজন আর স্বতন্ত্রভাবে কতজন কাউন্সিলর প্রার্থী জয়লাভ করে।
আজ শনিবার ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে প্রথমবারের মতো চাঁদপুর পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, কাউন্সিলর পদে ৫০ জন এবং মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
চাঁদপুর পৌরসভার ভোটার এক লাখ ১৭ হাজার ৮৮৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৯ হাজার ২৭ জন এবং নারী ৫৮ হাজার ৮৫৯ জন। ১৫ ওয়ার্ডে ভোট কেন্দ্র ৫২টি।
১০ অক্টোবর, ২০২০।