নদীতে দেখা মিলছে না ইলিশের

ইলশেপাড় রিপোর্ট
এখন ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও নদীতে আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না বলে দাবি জেলেদের। এতে হতাশা বাড়ছে জেলেদের মাঝে। তারপরও তারা হাল ছাড়ছেন না। ইলিশের আশায় রাতদিন দল বেঁধে নদীতে নামতে দেখা যায় জেলেদের। চাঁদপুরের মেঘনা ও পদ্মা নদী চষে বেড়াচ্ছেন জেলেরা।
নদীর তীরবর্তী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে ট্রলার ও নৌকায় জাল লোড করে মেঘনায় দল বেঁধে নামছেন স্থানীয় জেলেরা। কোন কোন ট্রলারে ৭ থেকে ৮ জন, কোন ট্রলারে ১০ এর বেশি জেলে রয়েছেন।
জেলেরা বলছেন, নদীতে গিয়ে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায় তাতে ট্রলারের তেলের খরচই ওঠে না। তারপরও জালে ঝাঁকে-ঝাঁকে ধরা পড়বে ইলিশ এমন আশায় তারা নদীতে জাল ফেলছেন।
ইব্রাহীমপুরের জেলে সুমন মাঝি ও আনোয়ার মাঝি জানান, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। অলস সময় কাটানোর সময় নাই। প্রতিদিন সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে আমরা দল বলে জেলেরা নদীতে ইলিশ ধরতে যাই। কোনো কোনো দিন ১ হাজার টাকার তেল পুইড়া ১৫শ’/২ হাজার টাকার ইলিশ পাই। আবার কোনোদিন ট্রলারের তেলের খরচও ওঠে না। তারপরও আমরা আশায় আছি জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে।
হাইমচর এলাকার জেলে রহমান মাঝি ও মতিন মাঝি বলেন, গেল বছর এসময় জালে ভালোই ইলিশ ধরা পড়ছিল। কিন্তু এ বছর এহনও জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ে নাই। কিন্তু আমরা হাল ছাড়ি নাই। প্রতিদিনই নদীতে জাল ফেলছি। দিনে ট্রলারের তেলের খরচ মিটিয়ে ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকা করে ভাগে পাই। বড় মাছ না পাওয়ায় লাভ হচ্ছে না।
তবে চাঁদপুর মাছ ঘাট এলাকার জেলেরা বললেন, আমরা আশায় আছি কখন জালে ঝাঁকে-ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে। তাহলেই লাভের মুখ দেখব।
মাছের আড়তদার আবুল বাসার বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো জেলেদের জালে আশানুরূপ ইলিশ ধরা পড়ছে না। যে কারণে ঘাটে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা এলেও তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান। আমরা আড়তদাররাও বিপাকে রয়েছি। তবে ছোট ছোট ইলিশ জালে ধরা পরছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় ইলিশের বৃদ্ধি কম হয়েছে। তবে নদীতে যে পরিমাণ পানি ছিলো তাতে ইলিশ পাওয়ার কথা।

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২।