ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজে উপাধ্যক্ষ নিয়োগের পাঁয়তারা

মাউশি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার
ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ চাঁদপুরে যেন একটি অন্যায়ের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। এখানে বারবার মাউশি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর এমপিও নীতিমালা এবং সরকারি কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাক্ষর জালিয়াতি করে অধ্যক্ষ অপসারণ, আইনি তোয়াক্কা না করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ, শিক্ষক-কর্মচারীদের বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্তসহ বহু অন্যায়ের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন সাবেক ও বর্তমান সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য।
এলাকাবাসী ও কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে আলাপকালে বেরিয়ে আসে এরূপ চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে কলেজের পড়ালেখার মান তলানিতে এসে পৌঁছেছে। যেখানে আগে উক্ত কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির হার ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ জন শিক্ষার্থী এবং ডিগ্রি ও সম্মান সহ প্রায় ১৮০০জন, সেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় ২৭০ থেকে ২৮০ জন মোট সকল বিভাগে ৬০০জন। পাসের হার ছিল ৯৫% বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৭৫ ভাগ।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিলীপ চন্দ্র দাস দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কলেজের সাবেক সভাপতির প্ররোচনায় কলেজের শিক্ষকদের কোন মতামত না নিয়ে কলেজের তহবিল তসরুপ এবং অডিট না করে অগণতান্ত্রিক উপায়ে কলেজ পরিচালনা করতে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে উক্ত মহল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিলীপ চন্দ্র দাসের উপর খুশি হয়ে তাকে প্রথমে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেয়ার পায়তারা শুরু করেন। পরবর্তীতে উক্ত পদের দায়িত্ব দেওয়া আইনি জটিলতা আছে বিধায় উপাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব প্রদান করতে তৎপর হয়ে উঠেন। তিনি, সাবেক সভাপতি সুজিত নন্দী এবং বর্তমান সভাপতি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বেশিরভাগ পরিচালনায় পর্ষদের সদস্যকে না জানিয়ে রেজুলেশন তৈরি করে গোপনে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিসহ নিয়োগের সব কার্যক্রম শুরু করেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও কলেজের কয়েকজন শিক্ষক নাম না বলা শর্তে বলেন যে, উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে প্রদান করা হয় এবং দিলীপ চন্দ্র দাস নিজে তিন জনের আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন ঐ কলেজের যুক্তিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মমতাজ বেগমের আবেদনটি অবৈধ।
কলেজের একাধিক শিক্ষক ও এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, উক্ত শিক্ষকের ডিগ্রি পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি না থাকায় উক্ত শিক্ষক ডিগ্রি পর্যায়ে উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন করার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র দিলীপ চন্দ্র দাসের পক্ষে প্রক্সি দিতে দিলীপ চন্দ্র দাস নিজে ঐ শিক্ষকের আবেদন জমা দেন যা মাউশি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলী রেজুলেশন (সংশোধিত) ২০১৯ এর সাথে সাংঘর্ষিক।
জনমনে ও কলেজের একাধিক শিক্ষকদের কাছ থেকে শোনা যায় যে, গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হারুনুর রশিদ (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) তিনি ঐ কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে আবেদন জমা দেন। তারও ডিগ্রি পর্যায়ে পাঠ দানের ১২ বছরের অভিজ্ঞতা হয়নি। তার আবেদনটি অবৈধ।
কলেজের বর্তমান সভাপতি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানকে ঐ বিষয়গুলো জানানো হলেও তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে আবেদনপত্রগুলো বৈধ বলে ঘোষণা করেন, যা মাউশি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের পরিপন্থী।
প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের সভাপতির দায়িত্ব নভেম্বর ২০২২ থেকে এখন পর্যন্ত পালন করলেও তিনি নিজ ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজে একবারের জন্যও আসেননি। তিনি ঢাকায় বসেই সাবেক সভাপতির ইশারায় কলেজ পরিচালনা করে আসছেন। তাহলে জনমনে প্রশ্ন জাগে তিনি সাবেক সভাপতিকে খুশি রাখার জন্য অবৈধভাবে দিলীপ দাসকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য আইন পরিপন্থী কাজে লিপ্ত হয়েছেন?
তিনি কি সুবিধা পেয়েছেন? সাবেক সভাপতি ২০১৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভংচুর এবং কলেজ পরিপন্থী কাজ করার অপরাধে দিলীপ দাসকে সাময়িক বহিস্কার করেন এবং পরবর্তীতে দিলীপ দাস ভবিষ্যতে এরুপ কাজে লিপ্ত হবেন না ও ভবিষ্যতে কলেজের কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন না বলে অঙ্গীকারনামা দেন। পরে কলেজ পরিচালনা পর্ষদ উক্ত বিষয়ে একটি রেজুলেশন করেন। এরপরও কিভাবে দিলীপ চন্দ্র দাসকে উপাধ্যক্ষ পদে আসীন করতে চায় এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানতে চায়।
বিষয়গুলো নিয়ে এলাকাবাসী কয়েকবার বর্তমান সভাপতি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমানের ঢাকাস্থ বাসভবনে গিয়েও হয়নি কোনো সমাধান। বিষয়গুলো নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে চাপা ক্ষোভ ও দুঃখ বিরাজ করছে। তারা জানায়, দিলীপ চন্দ্র দাস যদি উপধ্যক্ষ পদে আসীন হয় তাহলে অচিরেই উক্ত কলেজটি তার চিরচেনা রূপ যৌবন সবকিছু হারিয়ে যাবে এবং কলেজটি জেলার মধ্যে সর্বনিম্ন কলেজ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে। যা খুবই দুঃখজনক।
তাই এলাকাবাসীর দাবি ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজে দিলীপ চন্দ্র দাসকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ না দিয়ে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শবান একজন উপাধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে প্রাণের কলেজটিকে তার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য সভাপতিসহ পরিচালনা পর্ষদের সবার সুদৃষ্টি কামনা করছে।

২১ ডিসেম্বর, ২০২৩।