ফরিদগঞ্জে এখনো জনপ্রিয় মুক্তিযোদ্ধা সহিদ উল্লা তপদার

 

আবু তালেব সরদার
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সহিদ উল্লা তপদার ফরিদগঞ্জ এখনো জনপ্রিয় মুখ। স¦াধীনতা যুদ্ধের পর অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্দিনের কান্ডারি, সত্যের শক্তিতে তিনি অবিরাম অতন্দ্রপ্রহরীর কাজ করে চলছেন।
মুক্তিযোদ্ধা মো. সহিদ উল্লা তপদার ১৯৭২ সালে প্রথম ফরিদগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৭২ ও ১৯৭৫ পর্যন্ত তৎকালীন থানা মুক্তিযোদ্ধা সদস্য হন। এছাড়া ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত মহকুমার সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ থানা কমান্ডার ছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালের পর বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের পরিচয় দিতে পারেনি তখন সহিদ উল্লা তপদার কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের বসার জায়গা ছিল না। সহিদ উল্লা তপদার তৎকালীন উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে বর্তমানে ফরিদগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিসটি তৈরি করেন। এছাড়া ১৯৯৭ সালে যখন মুক্তিবার্তার কাজ আরম্ভ হয় তখন অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা না করার দাবিতে ১৯৯৮ সালে নভেম্বর ও মার্চে উপজেলা কমান্ডার পদ থেকে নিজেই সরে দাঁড়ান।
এরপর অবহেলিত মুক্তিযোদ্ধারা পুনরায় তাদের প্রিয়মুখ মো. সহিদ উল্লা কমান্ডারকে মুক্তিযোদ্ধাদের সুখ-দুঃখে কাছে পেতে ফরিদগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নির্বাচনে ২০১০ ও ২০১৪ সালে বিপুল ভোটে কমান্ডার নির্বাচিত করেন। তিনি আজ পর্যন্ত সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি ২০১২ ও ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঘামঝরা খাটুনির মধ্য দিয়ে ফরিদগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্মের জন্য একটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করেন।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা মো. সহিদ উল্লা তপদার তার জন্মস্থান মূলপাড়া ও বালিথুবায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জনমানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রিয়মুখ সহিদ উল্লা তপদার এখনো যেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে চির চেনা মুখ।
০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।