বলাখাল বাজারে ব্যাংক না থাকায় ভোগান্তি

ব্যাংক স্থাপনে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি



মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে অবস্থিত বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পৌরসভাধীন বলাখাল বাজার। যা কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। এখানে ৫ শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কয়েক শতাধীক প্রবাসী ও আবাসিক এলাকা থাকলেও নেই কোনো ব্যাংক। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হয় এই এলাকাসহ আশপাশের গ্রামের লোকজনকে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি সরকারি কিংবা বে-সরকারি অন্তত একটি ব্যাংকের শাখা বলাখাল বাজারে হোক।
অনেক আগ থেকে এমন দাবি উঠলেও সম্প্রতি সময়ে তা জোরালো হয়েছে। এ বিষয়ে বলাখাল বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলামের সহযোগিতা চেয়ে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে। এই বাজারে ব্যাংক আসলে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
জানা গেছে, বাজারটি পৌরসভার ১ ও ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। বাজারের অভ্যন্তরে রয়েছে, বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, বলাখাল জে.এন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কারিগরি কলেজ, বলাখাল চন্দ্রবান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বলাখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলাখাল নূর.এ মদিনা আলিম মাদ্রাসা, বলাখাল চন্দ্রবান কেজি স্কুল, বলাখাল ক্যামব্রিয়ান কেজিস্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুল ও মাদরাসা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়া বাজারের পাশে রয়েছে বলাখাল রেল স্টেশন।
ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, বাজারে রয়েছে ৫৮৮ জন ব্যবসায়ী লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী এবং বাজার এলাকায় রয়েছে কয়েকশ’ বাড়ি। যার সবগুলোতে রয়েছে ভাড়াটিয়া। লক্ষাধিক লোকের বসবাস বাজারসহ আশপাশের এলাকায়। যার মধ্যে কয়েক শতাধিক প্রবাসী। কিন্তু নেই কোন ব্যাংক। যার ফলে বাজারের ব্যবসায়ীসহ এসব এলাকার লোকজনকে লেনদেনের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
স্থানীয় দলিল লিখক চৌধুরী মিজানুর রহমান জানান, বলাখাল এলাকায় কয়েক হাজার প্রবাসী রয়েছে। এদের নিকট আত্মীয়রা ব্যাংকের লেনদেনের জন্য হাজীগঞ্জ বাজারে যাওয়া-আসা করেন। যার ফলে নিরাপত্তাহীনতা ভুগতে হয়। বলাখাল বাজারে ব্যাংক হলে প্রবাসী পরিবারগুলোসহ আমরা স্থানীয় ও ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পৌরসভার পানির বিল পরিশোধসহ ব্যাংকিং লেনদেন সহজে করতে পারতাম।
বলাখাল জে এন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু তাহের মজুমদার জানান, আমার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২শ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। বলাখালে ব্যাংক হলে আমাদের শিক্ষার্থীরা বেতন, পরীক্ষার ফিসহ আনুসাঙ্গিক অর্থনৈতিক লেনদেন খুব সহজেই করা যেত।
বলাখাল বাজারের ব্যবসায়ী তসলিম আলম শিশির জানান, আমাদের বলাখাল বাজারসহ এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রাণের দাবি, এই বাজারে একটি ব্যাংক চাই।
বলাখাল বাজার ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও মেসার্স জব্বার বেপারী এন্ড ফিস মাচেন্ট এজেন্ট এর স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর বেপারী জানান, শুধু আমার প্রতিষ্ঠানে মাসে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এই লেনদেনগুলো আমাকে বিভিন্ন মাধ্যমসহ হাজীগঞ্জ বাজারে গিয়ে ব্যাংকে করতে হয়। বলাখাল বাজারে ব্যাংক হলে এসব লেনদেনগুলো আমি এখানে করতে পারতাম।
বলাখাল বাজারের ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি মোস্তফা মিয়াজী বলেন, এই বাজারে ব্যাংক হলে ব্যাংক লাভবান হবে। বলাখালের ডাকঘর প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা লেনদেন করে। ডাকঘরের হিসেবে ব্যাংকে আরো বেশি লেনদেন হবে। এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে আমরা মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছি।
এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে উল্লেখ করে পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন বলেন, বলাখাল বাজারের ডাকঘরকে ছোট একটি স্থান থেকে আধুনিক ভবন, আমার মাধ্যমে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বলাখাল বাজারে ড্রেন, আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মান করা হয়েছে। বাজারের সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের অনুরোধে, আমি ব্যাংক এশিয়ার দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তারা ব্যাংক করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন, বলে আমাকে জানিয়েছেন।