স্টাফ রিপোর্টার
করোনাকালে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষার বদলে শিক্ষার্থীদের নেয়া হচ্ছে অ্যাসাইনমেন্ট। শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ছাড়া অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিচ্ছে না চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে সন্তানের বেতনের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক অভিভাবক।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আগে বেতনের টাকা দিতে বলা হচ্ছে স্কুল থেকে। তারপর অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিচ্ছে। প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়ার সময় স্কুল থেকে বলা হয়েছে বেতনের টাকা পরিশোধ না থাকলে দ্বিতীয় অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিবে না। গত রোববার বেতন পরিশোধ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেননি দশম শ্রেণির ক্লাশ শিক্ষক মো. নাছির।
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধের জন্য মোবাইলে অভিভাবকদেরও তাগাদা দিচ্ছেন। গত রোববার স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা করা হচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট জমা না দিয়ে ফেরত যাচ্ছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের প্রত্যেককে বেতন পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে। বেতন পরিশোধ করা হয়নি বলে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়া হয়নি।
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ৫০০ টাকা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানও বন্ধ। এসময়ের মধ্যেই চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের বেতন অভিভাবকরা কষ্ট করে মিলিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিশোধ করে নতুন সেশনে ভর্তি হয়। বর্তমানে ৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে শিক্ষার্থীদের। অ্যাসাইনমেন্ট দেয়ার আগে অভিভাবকদের একসঙ্গে এতগুলো টাকার চাপ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুলের শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। স্ব-স্ব শ্রেণি শিক্ষকরা বলছেন, তারাও অসহায়। বেতন আদায় না করলে তাদের নিজেদেরই বেতন হবে না। তারা শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের বোঝাচ্ছেন, স্কুল বন্ধ থাকার কারণে তাদেরও কারও কারও ৬ মাস বেতন হয়নি। তারাও বেকায়দায় আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক বলেন, আমরা অল্প বেতনে চাকরি করি। এত টাকা একসঙ্গে দেব কিভাবে? সরকার করোনার সংকটকালে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদেরও করোনাকালের বেতন মওকুফ করা উচিত।
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) শাহাদাত হোসেন বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিতেছি আমরা। বেতনের কথা তো আমরা বলি, শিক্ষকদের বেতন দিতে হবে। তাই অভিভাবকদের বেতনর কথা বলা হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন না দিলে শিক্ষকরা কিভাবে কাজ করবে। একেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭/৮/১০ মাস বেতন বাকি রয়েছে। অ্যাসাইনমেন্ট হচ্ছে সরকারি হিসাব। অ্যাসাইনমেন্টের সাথে টাকার কোন সম্পর্ক নেই।
চাঁদপুর মাধ্যমিক অফিসার মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, অ্যাসাইনমেন্ট জমা না নেওয়ার কথা নয়। অ্যাসাইনমেন্টের সাথে টাকার কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের পরিপত্রের আলোকে সবকিছু হয়, অ্যাসাইনমেন্টের সাথে টাকার কোন সম্পর্ক নেই। বেতনের সাথে অ্যাসাইনমেন্টের সাংঘর্ষিক কোন কিছু হবে না। অ্যাসাইনমেন্ট চলমান প্রক্রিয়া। এখন যদি কেউ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে না পারে, তাহলে লগডাউন শেষে জমা দিবে। এখন বাচ্চারা অনলাইন থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করে নিবে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইমতিয়াজ হোসেন জানান, বেতনের অজুহাতে অ্যাসাইনমেন্ট জমা না নেয়া ঠিক না। তারপরও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৩০ জুন, ২০২১।
