
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে গিয়ে আমরা সম্মানিত হচ্ছি
……পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান
শাহ আলম খান
পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়ে হয়েছে, কিন্তু আমাদের সব কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। অর্থাৎ যারা এই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের অথবা তাদের পরিবারের সদস্য যারা এখনো বেঁচে আছেন, তাদের প্রতি আমাদের কিছু দায়িত্ব এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে অনেকে আমাদের কাছে তাদের চাওয়া-পাওয়া, অনুযোগ ও অভিযোগ দরখাস্তের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এটা কিন্তু তাদের প্রাপ্য। আমাদের উচিৎ ছিলো তাদের কাছে গিয়ে আমাদের এই বিষয়গুলো জানা। আসলে ব্যর্থতা আমাদের, আমরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। তবে এখন যেহেতু আমরা তাদের বিষয়গুলো জানতে পেরেছি, এখন আমাদের কাজ হবে তাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো বাস্তবায়ন করা।
তিনি আরো বলেন, আজ আমরা আপনাদের সম্মানিত করছি না, বরং আপনাদের সম্মানিত করতে গিয়ে আমরা নিজেরা সম্মানিত হচ্ছি। আপনাদের কাজগুলো করতে পারলে আমাদের আজকের এই আয়োজনের স্বার্থকতা।
গতকাল বুধবার দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ লাইনস্ ড্রিল সেডে চাঁদপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব মুক্তিযোদ্ধা মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী বীর প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা শহীদ উল্যাহ মাস্টার, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বকাউল, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নানের মেয়ে আয়েশা আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শহীদ উল্যাহর মেয়ে ডলি, মুক্তিযোদ্ধা মহরুম আব্দুল করিম ভুঁইয়ার মেয়ে শাহনাজ পারভীন, মুক্তিযোদ্ধা মোহনবাঁশি দত্তের ছেলে অজিত দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল বারি মিয়ার ছেলে রিয়াজ আহম্মেদ কনক, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
মুক্তিযোদ্ধা মমিন উল্যাহ পাটওয়ারী বীর প্রতীক তাঁর বক্তব্যে বলেন, যারা সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা তাদের নিয়ে সিনেমা লেখা সম্ভব। যদি ভালো মানের লেখক হয়, তাহলে একাধিক সিনেমা করা সম্ভব। অদ্ভুদ লাগে একটি ব্যাপার, রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা আর মুক্তিযোদ্ধা রাজাকার হয়ে যাচ্ছে। এইসব বিষয়ে বর্তমানে একজন আরেকজনকে দোষারোপ করছে। আমাদের সাফল্য এই জায়গায়, আমরা যুদ্ধ করেছি এবং স্বাধীনতা লাভ করেছি। আমরা সম্মান কিংবা সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করেনি।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধা বাড়ছে, বাড়ুক, তাতে দেশের মানুষ যদি কিছু পায়, তাহলে সমস্যার কিছু নেই। কিন্তু রাজাকার যদি মুক্তিযোদ্ধা হয়, তাহলে আমাদের মধ্যে পার্থক্য কি থাকে।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে ৫৭ জন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রীর মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পুলিশ লাইনস্ জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুস সালাম ও গীতা পাঠ করেন জগনান্দ পন্ডিত দাস।
