
বনানী এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে নিহত
স্টাফ রিপোর্টার
বনানীর এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক তমাল (৩০) ও রাজুর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাড়ির আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা কোনোভাবেই তাদের অসময়ে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না। ফরিদগঞ্জ উপজেলার শ্রীকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা তমাল।
একই ঘটনায় নিহত হয় মতলব খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নাগদা গ্রামের বেনু প্রাধানিয়ার ছেলে রেজাউল করিম রাজু। রাজু আসিফ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।
ফরিদগঞ্জের শ্রীকালিয়া গ্রামের মুন্সিবাড়ির মো. মকবুল হোসেন মুন্সীর ছেলে তমাল ঢাকার সারুলিয়ায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। ৩ ভাইয়ের মধ্যে তমাল দ্বিতীয়। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বৃহস্পতিবার আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়ার পর তমালের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার বন্ধু মিনহাজ উদ্দিন।
মিনহাজ জানান, তমাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০০৬-০৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। পাস করেছেন ২০১১ সালে। তিনি ইইউআর বিডি সলিউশনে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। আগুনে তার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। এতে নিমিষেই শেষ হয়ে যায় তার পরিবারের হাজারো স্বপ্ন। তার বাবা-মা সন্তানকে হারিয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বলে তিনি জানান।
অগ্নিদগ্ধ হয়ে অপর নিহত মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা গ্রামের রেজাউল করিম রাজু। তিনি ওই ভবনের ৫ম তলার আসিফ ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। তিনি ভবনের ৫ তলার পুরো ফ্লাটটি ক্রয় করে ব্যবসা করতেন। রাজু ১ ভাই ৩ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। স্ত্রী ও ২ কন্যা সন্তান নিয়ে বনানীতে থাকেন। বাবা বেনু প্রধানীয়া চট্টগ্রামে ব্যবসা করেন।
রাজুর চাচা শশুরের ছেলে ট্রাভেলস ব্যবসায়ী হাজি জসিম উদ্দিন জানান, কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃতদেহ শনাক্ত করে গ্রহণ করেছি। তাকে কোথায় দাফন করা হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। রাজু হাজীগঞ্জ উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ওড়পুর গ্রামে বিবাহ করে। তার শ^শুর পরিবারের সব সদস্যই লন্ডন প্রবাসী।
হাজীগঞ্জের রামপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম মানিক জানান, রাজু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকাহত। তার স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।
