হাজীগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সমাবেশ

পুলিশ টাকা চাইলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিন : পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
জিডি, তদন্ত, চার্জশীট, পাসপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ সব পুলিশি কাজে অথবা থানায় খরছের নামে কোন টাকা দিবেন না। সরকার পুলিশি কাজে সব ধরনের ব্যয় প্রদান করে থাকে। সর্বোপরি পুলিশ টিএ/ডিএসহ বেতন-ভাতা পেয়ে থাকে। সব মানুষ ভালো নয়, তেমনি সব পুলিশ খারাপ নয়। আমাদের মাঝে দু’চার জন খারাপ থাকতে পারে। কথাগুলো বলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জিহাদুল কবির পিপিএম।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি কর্তৃক আয়োজিত মাদক, বাল্যবিবাহ, জঙ্গিবাদ ও নারী নির্যাতন বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার। শুক্রবার বিকালে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ বিশ^রোডস্থ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, পুলিশ অনৈতিকভাবে টাকা চাইলে ওসি, সার্কেল অথবা আমাকে ফোন দিন। আমাদের মোবাইল নম্বর মনে না থাকলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিন। যদি কোন ব্যক্তি পুলিশকে টাকা দিলেন, তাহলে আপনিও অপরাধ করলেন। কারন অনৈতিক কাজ করার নৈতিক অধিকার আমাদের কারো নেই।
তিনি আরো বলেন, আমরা জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই। চাঁদপুরের সকল থানা হবে সেবার স্থান। পুলিশ জনগনের বন্ধু এবং জনগণই পুলিশের বন্ধু হবে। পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ এ শব্দের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। চাঁদপুর হবে মাদক, বাল্য বিবাহ, জঙ্গীবাদ ও নারী নির্যাতনমুক্ত একটি জেলা। আমরা ধীরে ধীরে সে দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, সামাজিক সমস্যা সামাজিকভাবেই মোকাবেলা করতে হবে। এ জন্য আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ জনসম্পৃক্তা ছাড়া সামাজিক সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে কমিউিনিটি পুলিশিংয়ের কার্যকরি ভুমিকা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ দূর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একনেকে এখন শত কোটি নয়, হাজার-হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। সরকার সকল সেক্টরে উন্নয়নের পাশাপাশি পুলিশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। যার ফলে আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। পুলিশ বেতন-ভাতাসহ সকল বিল নিয়মিত পাচ্ছে। সুতরাং আমাদের পূর্বের অবস্থা এখন নেই।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগির হোসেন রনির সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ অধ্যাপক আবদুর রশিদ মজুমদার বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নই। যার ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বেশী। আমরা সচেতন হলেই, শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ঘাটতি হবে না। নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানি ও শাস্তির শিকার না হয়, এজন্য তিনি পুলিশের আরো বেশি সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার অনুরোধ জানান।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন, হাজীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ রায়হানুর রহমান জনি, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারন সম্পাদক সুফী খায়রুল আলম খোকন, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী মোহাম্মদ মনির। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন, উপজেলার বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি জাফর আহমেদ।
হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের প্রভাষক জাহিদ হাসানের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি আলী আশ্রাফ দুলাল, সাধারন সম্পাদক ও হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ আসফাকুল আলম চৌধুরী, ইউপি চেয়ারম্যানদের পক্ষে মানিক হোসেন প্রধানীয়া, শিক্ষকদের পক্ষে অধ্যাপক সেলিম, উপজেলা কমিউনিটি পুলিশংয়ের সদস্য ফেরদৌস আক্তার প্রমুখ।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুল মান্নান, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আবদুল হাদি, গোলাম মোস্তফা স্বপন, জাকির হোসেন লিটু, মনির হোসেন গাজী, রফিকুল ইসলাম মিলিটারী, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুদ ইকবাল, যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন সোহেল, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক ও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন।
এ সময় প্রেসক্লাব ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুধীজন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট সদস্য ও রোভার স্কাউট সদস্যসহ সর্বস্তরের জনাসাধারণ, থানার অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।