আলু পচার আশঙ্কায় কৃষক

টানা বৃষ্টিতে মতলবের ক্ষেতে পানি

মতলব উত্তর ব্যুরো
ফেব্রুয়ারির শেষে টানা চার দিনের বৃষ্টিতে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণের আলুর পাশাপাশি শাকসবজিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। খেতে বৃষ্টির পানি জমে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এ বছর কৃষকরা যখন আলু ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই টানা চার দিন বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া ভালো হলে রোদের তাপ পেয়ে মাটি গরম হয়ে আলু পচে যাওয়া এবং পোকার আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তাই কৃষকরা অগ্রিম আলু তোলার পরিকল্পনা করছেন। এ ভেজা আলু গুদাম বা হিমাগারে রাখলে পচে যাওয়ার শঙ্কা আরও বেড়ে যাবে। গতকাল শনিবার মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুর কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
কৃষকরা আরও জানান, তারা জমির পানি অপসারণ করছেন। কোথাও আবার পানির নিচ থেকেই আলু তুলছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি আলুর জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক বছর কৃষকরা আলু বেচে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মতলব উত্তর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে চরাঞ্চলে বেশি আলু আবাদ করা হয়। চরকাশিম গ্রামের কৃষক জিল্লুর রহমান জানান, তিনি এ বছর ১ হাজার শতক জমিতে আলু চাষ করেছেন। চার দিনের টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে গেছে। আলুর ক্ষতি ঠেকাতে তিনি জমিতে ড্রে করে পানি সরানোর ব্যবস্থা করেন।
নলকান্দি গ্রামের ইব্রাহিম গাজী জানান, বৃষ্টি জমিতে কিছুটা পানি জমিয়ে দেয়। তাই জমির আইলে ড্রেন কেটেছেন তিনি। এতেও সব পানি না সরায় সেচ দিয়ে পানি সরানোর ব্যবস্থা করেন। চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি থাকায় আলু বিক্রি করার জন্য কোনো পাইকার আসেনি। গত কয়েক বছর চাষ করা আলু বিক্রি করে লাভের মুখ দেখিনি।
চরওমেদ গ্রামের শামীম ও আলাউদ্দিন জানান, তারা প্রত্যেকে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কানি জমিতে আলু চাষ করেন। গত কয়েক বছর তারা লাভের মুখ দেখেননি। এবার আলুর ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির তাতে সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
চরওয়েস্টার গ্রামের মালু বেপারী বলেন, এবার অল্প জমিতে আরু চাষ করেছি। বাকি ১০ গন্ডা জমিতে লাগানো টমেটো ও লাউ বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছি। তবে বৃষ্টি মৌসুমি ফসলের ক্ষতি করেছে।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টি হলেও আলুর তেমন ক্ষতি হবে না। কেননা সব জমিতে পানি জমেনি। অন্যদিকে আলুর বয়স ৯০ দিনের বেশি হয়েছে। কিছু নিচু জমিতে জমা পানি কৃষকরা সরিয়ে দিয়েছেন। তবে আরও বৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমে দাদ বা স্ক্যাব রোগ হতে পারে। আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ার পর কৃষকরা দ্রুত আলু ওঠাতে পারলে ক্ষতি কম হবে।