চাঁদপুরে ১শ’ ২০টি কেন্দ্রে একযোগে ৬১ হাজার ২শ’ জনকে সিনোর্ফামের টিকা প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশের মতো শনিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে জেলার ১শ’ ২০টি কেন্দ্রে একযোগে করোনার ভ্যাকসিন ‘গণটিকা’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলমান এই কর্মসূচীতে ৬১ হাজার ২শ’ জনকে সিনোর্ফামের টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, নতুন আক্রান্তসহ জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১৮৩৮জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯৯জন। এ পর্যন্ত সুস্থ ঘোষণা করা হয়েছে ৭,৫৫৯জনকে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪,০৮৯জন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১১৪জন। বাকিরা হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।
এদিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল (সদর) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৯ ঘণ্টায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে শনিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সরকারি জেনারেল হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, ২৯ ঘণ্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে মধ্যে ৭জনের করোনা পজেটিভ ও বাকীরা উপসর্গে ভুগছিলেন।
করোনা ওয়ার্ডে যে ৭ জন মারা গেছেন তারা হলেন- চাঁদপুর সদরের মধ্য তরপুরচন্ডীর ফজিলাতুনেছা বেগম (৭০), আশিকাটি ইউনিয়নের সেনগাও গ্রামের অনু মিয়া পাটওয়ারী (৮০), লালপুরের আনোয়ারা বেগম (৬৫), বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার খলিলুর রহমান (৫৪), দক্ষিণ বালিয়ার কুলসুমা বেগম (৫৫), কামরাঙার সাজেদা বেগম (৭০) ও চাঁদপুর পৌরসভার পূর্ব শ্রীরামদীর মর্জিনা বেগম (৩৫)।
এছাড়া উপসর্গ নিয়ে মৃতরা হলেন- ফরিদগঞ্জ উপজেলার গাব্দেরগাঁও এলাকার লোকমান হোসেন (৬২), ফরিদগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া এলাকার কলমতর খান (৭০), পশ্চিম রূপসার দেলোয়ার হোসেন (৪৫), মূলপাড়ার রেজিয়া বেগম (৯০), কচুয়া উপজেলার সাহিদাপুরের খালেদা খানম (৪৫), মতলব দক্ষিণ উপজেলার আড়ংবাজারের শেফালী বেগম (৬০),শাহরাস্তি সূচীপাড়ার আমেনা বেগম (৮০),হাজীগঞ্জ উপজেলার ধড্ডা গ্রামের জাহানারা বেগম (৬৫), শরীয়তপুর জেলার সখীপুর উপজেলার জুলেখা বেগম (৬৫)।
হাসপাতালের এক মেডিক্যাল অফিসার জানান, যারা মারা গেছেন তাদের অক্সিজেনের মাত্রা একেবারেই কম ছিল। এছাড়া শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি রোগী ভর্তি আছে। ফলে তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালে দায়িত্বরতরা।
এমন পরিস্থিতিতে রোগীর স্বজনরাও ওয়ার্ডের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তবে হাসপাতালের পরিবেশ ফিরে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান, তত্বাবধায়ক ডা. হাবিব উল করিম। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় জনবলের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কমীর সঙ্কট চলছে। পালাক্রমে মাত্র দু’জন কর্মী গোটা হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরিভিত্তিতে আরো দু’জন কর্মী অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মূলত এখন যারা মারা যাচ্ছেন তাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে অক্সিজেন স্বল্পতায় দ্রুত মৃত্যুবরণ করছে। চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল এবং সিলিন্ডার অক্সিজেন দিয়েও তাদের জীবন রক্ষা করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের দাবি, করোনার মুমূর্ষূ রোগীদের বাঁচাতে হলে জরুরিভিত্তিতে আইসিইউ চালু করা প্রয়োজন।
০৭ আগস্ট, ২০২১।