চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে ৩ প্রার্থীর লড়াই

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
আগামি ১০ অক্টোবর চাঁদপুর পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ প্রার্থীর ভোটের লড়াই দেখার অপেক্ষায় পৌর নাগরিক ও ভোটরা। লড়াইয়ে নৌকা, ধানের শীষ ও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে থাকছেন আওয়ামী লীগের অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, বিএনপির আক্তার হোসেন মাঝি ও ইসলামী আন্দোলনের মামুনুর রশিদ বেলাল। তাদের মধ্যে কেবল একজনই জয়ের মালা গলায় নিয়ে বসবেন পৌর মেয়রের চেয়ারে।
তবে ভোটের সমীকরণে এগিয়ে থাকবেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই প্রার্থী। তারা হলেন- অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল ও আক্তার হোসেন মাঝি। এই দুই প্রার্থীর মাঝ থেকেই মূলতঃ নির্বাচিত হবে আগামি দিনের পৌর পিতা। তাই জনপ্রিয়তায় কে থাকবেন বেশি এগিয়ে তা এখন হলফ করে বলা না গেলেও ভোটারদের ভোটাধিকারের উপরই সব নির্ভর করবে বলে বিশ্লেষক দাবি করছেন।
এদিকে চাঁদপুর পৌর নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী প্রদানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেখিয়েছে মুন্সিয়ানা। যোগ্যতার নিরিখে তারুণ্যনির্ভর প্রার্থীর হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিপরীতে পোড়খাওয়া রাজনৈতিক নেতার হাতেই ধানের শীষ দিয়েছে বিএনপি। তবে এই দুই প্রার্থীরই রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। তারা উভয়ই রাজনীতিতে এসেছেন ছাত্র রাজনীতি দিয়ে। বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার জন্য পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে প্রার্থী করিয়েছে।
হাস্যোউজ্জল ও তারুণ্য নির্ভর আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল রাজনীতিতে আসেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে। ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ক্রীড়া সম্পাদক, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদকের।
বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী আক্তার হোসেন মাঝি ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়েই প্রবেশ করেন রাজনীতিতে। জাতীয়তাবাদী আদর্শের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে দেখিয়েছেন জনপ্রিয়তার প্রমাণ। নির্বাচিত হয়েছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি)। ছাত্র রাজনীতি শেষে নেতৃত্বে আসেন বিএনপির রাজনীতিতে। চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে একবার বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের রাজনীতিতে নিজকে জানান দেন এই নেতা। বর্তমানে এই নেতা দায়িত্ব পালন করছেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়কের। পাশাপাশি তিনি শহর বিএনপির সভাপতি।
আগামি ১০ অক্টোবর চাঁদপুর পৌর নির্বাচন ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। এই পদ্ধতিতে ভোটাররা তেমন পরিচিত না হলেও নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ আছে ভোটারদের। তবে পরিবেশ পরিস্থিতি কতটা ভোটারদের অনুকূলে থাকবে তা কেবল ভোটের দিনেই নির্ধারণ হবে। পৌরবাসী পছন্দের প্রার্থীকে ভোটাধিকারের মাধ্যমেই নির্বাচিত করতে আগ্রহী। এজন্য প্রশাসন কতটা ভোটারদের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাবেন তাই দেখার অপেক্ষায় পুরো জেলার মানুষ।
তবে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নেতাকর্মীদের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যত বেশি ভোটার উপস্থিতি হবে ততোই নৌকা প্রতীকের জয়ের সম্ভবনা বাড়বে। তাই ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জিল্লুর রহমান জুয়েল। বিপরীতে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ করছেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে। ঘরোয়া পরিচিতি সভায় প্রশাসনের বাধা দিয়েই ভোটের মাঠে নামতে হয়েছে বিএনপি প্রার্থীকে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখনো কোন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলেননি ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মামুনুর রশিদ বেলাল। এখন দেখার পালা ভোটের মাঠে ৩ প্রার্থীই তাদের নিজেদের কতোটা গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারেন ভোটারদের কাছে।
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর পৌর নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই। ২৪ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ অক্টোবর, শনিবার ভোটগ্রহণ।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০।