চাঁদপুর শহরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা

দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড, ২৪ ঘণ্টায় ২৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টি

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে চাঁদপুর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও বাসাবাড়িতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে গত ২৭ মে জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ২৫৭ মিলিমিটার। গত শুক্রবার সকাল থেকে জেলায় টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
শহর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকায় সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের নাজির পাড়া, মিশন রোড আশ্রম এলাকা, প্রফেসর পাড়া, মমিন পাড়া, গুয়াখোলা রোড, চিত্রলেখা মোড়, পালপাড়া, আলিম পাড়া, আদালত পাড়া, রহমতপুর আবাসিক এলাকা, গাজী সড়ক, ব্যাংক কলোনী, ষোলঘর, ওয়ারলেছ বাজার, বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, বাবুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কল্যাণী ইউনিয়ন পরিষদ এবং মডেল টাউন ও মাদরাসা সড়কে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে মুষলধারে টানা এমন বৃষ্টিতে জেলা শহর, সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও বাসাবাড়িতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। যা শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। চাঁদপুর শহর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মহল্লায় সড়কে জলাবদ্ধতা। অনেক বাসাবাড়ির নিচতলায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। বিরামহীন বৃষ্টি হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ে। শহরের পুরানবাজার মধুসূদন হাইস্কুল মাঠ বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। নতুনবাজারের নাজির পাড়া, মিশন রোড আশ্রম এলাকা, শেরেবাংলা ছাত্রাবাস এরিয়ার পূর্বপাশ লাগোয়া সড়ক ও বাসাবাড়ি, প্রফেসর পাড়া, মমিন পাড়া, গুয়াখোলা, চিত্রলেখা মোড়, পালপাড়া, আলিম পাড়া, রহমতপুর আবাসিক এলাকা, তালতলা গাজী সড়ক, করিম পাটওয়ারী সড়ক ও মুন্সী বাড়ি মাদ্রাসা রোডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এসব এলাকার সড়কের বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। নাজির পাড়ার সড়কেই ছিল প্রায় কোমর সমান পানি।
এসব এলাকার রাস্তার পাশে ড্রেন থাকার পরেও পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। কারণ বিভিন্ন জায়গায় ময়লা-আবর্জনা আটকে ড্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। আবার কিছু কিছু জায়গায় ড্রেন ভেঙ্গে ব্লক হয়ে যায়। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা শহরের সড়কে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বেলা ১১টার পর থেকে বাসাবাড়ি থেকে পানি নিষ্কাশন হলেও রাস্তাঘাটের পানিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে মুষলধারে এমন বিরামহীন বৃষ্টিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষগুলো দারুণ বিপাকে পড়ে। আর নিম্ন এলাকার বাসিন্দারা ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে খুবই বেকায়দায় পড়ে। এ অবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি তারা আহ্বান জানিয়েছেন।
মিশন রোড এলাকায় এক অটোরিকশা চালক বলেন, ভোর ৬টায় সড়কে নেমেছেন। বৃষ্টির কারণে লোকজন বাসাবাড়ি থেকে নামেনি। যাত্রীর অপেক্ষায় আছেন। সড়কে যানবাহন সংখ্যা খুবই কম।
শহরের নাজির পাড়ার মামুনুর রশিদ বলেন, বৃষ্টিতে তাদের বাসার নিচতলায় হাঁটুসমান উঠে গেছে। রাত থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পালপাড়া এলাকার মাজহারুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর টানা বৃষ্টি হলেও গতকাল রাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল অনেক বেশি। তাদের বাসায়ও হাঁটুসমান পানি।
বাবুরহাট এলাকার যুবক সাইম বলেন, আমাদের এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া অনেক বাসাবাড়িতে বৃষ্টির পানি উঠেছে। যেসব মহল্লায় সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে সেইসব মহল্লার সঙ্গে ড্রেনরে সংযোগ করে দিলে পানি নিষ্কাশন করা হয়ে যায়। যেসব জায়গায় ড্রেন আছে তা পরিষ্কার করলে এবং যেসব জায়গায় নষ্ট হয়ে গেছে সেসব জায়গায় পুনরায় সংস্কার করেলে এসব জায়গায় আর পানি আটকে থাকবে না।
শহরের শপথ চত্বর এলাকায় এক মাঠা বিক্রেতা বলেন, সকাল ৬টায় এসে মাঠা বিক্রির জন্য বসেছেন। বৃষ্টির কারণে সকাল ১০টা পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আসেনি। মাঠা বিক্রিতেই তার সংসার চলে। যে কারণে বৃষ্টিতেও ঘরে বসে থাকতে পারেননি।
সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলগী গ্রামের বাসিন্দা আ. ছাত্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে বাড়ির চারপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সড়কেরও বেহাল অবস্থা।
এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। থেমে থেমে সারা রাত বৃষ্টি ও বজ্রপাত অব্যাহত ছিল। সন্ধ্যার পর থেকে শহরের সড়কগুলোতে যানবহন চলাচল কমে যায়। অনেকেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাসাবাড়িতে চলে যায়।
চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ্ মো. শোয়েব বলেন, ৪ অক্টোবর সকাল ৯টা হতে ৫ অক্টোবর সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৫০ মিলিমিটার এবং সকাল ৬টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা হিসেবে এ বছর জেলায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ২৮৩ মিলিমিটার। এর আগে গত ২৭ মে জেলায় ২৫৭ মিলিমিটার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও আগামি ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এদিকে শিগগিরই বৃষ্টিপাত কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার সকালে প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে লঘুচাপ। যার প্রভাবে খুব সহসাই বৃষ্টি বন্ধ হচ্ছে না, বরং আরও কয়েকদিন এমন প্রবণতা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিতও দিয়েছে সংস্থাটি।

০৬ অক্টোবর, ২০২৪।