জেলাবাসীর প্রতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের আহ্বান

লকডাউন ও ১৮ দফা মেনে চলতে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাপের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন ও ১৮ দফা স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলতে জেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী। তিনি বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলার সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের আরো ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে এই জাতীয় দুর্যোগে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, গতবছরের মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চিকিৎসক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা জনসাধারণের সহায়তা নিয়ে সরকার সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। পূর্ব প্রস্তুতি না থাকা সত্ত্বেও মহান আল্লাহর রহমতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সঠিক ও দূরদর্শী নেতৃত্বে করোনার দীর্ঘমেয়াদী লকডাউনে দেশের একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। সরকারিভাবে দুঃস্থদের ব্যাপক সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে টিকা প্রদানেও বর্তমান সরকার আন্তরিকতা, সক্ষমতা ও সাফল্য দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। যা প্রথম দফার চেয়ে আরো বেশি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ ও জনগণকে সুরক্ষা দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৮ দফা স্বাস্থ্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এখন আমাদের সম্মিলিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধিদের এই কাজে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা দরকার।
করোনার সাম্প্রতিক ব্যাপক সংক্রমণ রোধকল্পে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাসমূহ অনুসরণ করে চাঁদপুর জেলাবাসীকে নিজ নিজ ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী। লকডাউন আবার দীর্ঘস্থায়ী হলে করোনায় কর্ম হারিয়ে বেকার হওয়া রিক্সাচালক, সিএনজি অটোরিক্সাচালক, বাস-ট্রাকের চালক/হেলপার, অটোবাইকচালকসহ বিভিন্ন ধরনের দিনমজুরসহ অসহায় মানুষকে সঠিক তালিকা করে সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। প্রতিটি কাজে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে সরকারি সব উদ্যোগ ও কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হবে। কারণ, জনগণের প্রতি নির্বাচিত জনপ্রতিধিদের জবাবদিহিতা, দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনআকাঙ্খাও রয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৮ দফা নির্দেশনা ও লকডাউন সঠিকভাবে বাস্তবয়ন সহজতর হবে।
চাঁদপুর জেলাবাসীর উদ্দেশে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী বলেন, জেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হিসেবে চাঁদপুর জেলা পরিষদ গতবছর করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ও অসহায়-দরিদ্র মানুষকে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছে। সীমিত সামর্থের মধ্যেও আমরা সারা জেলায় আমাদের সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায়ও আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি, যা শীঘ্রই বাস্তবায়ন শুরু হবে।
জেলা প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে রাখা হয়েছে। তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পর্কে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে অবহিত করা আবশ্যক। আমি ও আমার পরিষদ জেলা প্রশাসনকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আসুন আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে জাতীয় এই দুর্যোগ মোকাবেলায় কাজ করি। মহান আল্লাহ আমাদের সবার সহায় হোন।
০৬ এপ্রিল, ২০২১।