জেলে শূন্য মেঘনা, ব্যস্ত আড়ৎ ফাঁকা

শাহ্ আলম খান

চাঁদপুরে ইলিশ প্রজনন রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ। তাই চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী এখন জেল শূন্য। প্রায় ৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকা এখন টাস্কফোর্সের নজরদারিতে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টা পর্যন্ত চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট ছিলো ইলিশ আর ক্রেতা-বিক্রেতায় লোকারণ্য। এখন সেই ব্যস্ততম আড়ৎ একেবারেই ফাঁকা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শহরের বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পদ্মা-মেঘনা নদীতে কোন জেলে নেই। বিশাল নদী এলাকায় শুধুমাত্র নদী পার হওয়ার ট্রলার ও কিছু লাইটার জাহাজ চলছে।

এদিকে মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টার পর থেকেই চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর ও হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীতে উপজেলা টাস্কফোর্স অভিযান অব্যাহত রেখেছে। দিন ও রাত আলাদা টিম নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে নদীতে টহলে থাকবে।

শহরের যমুনা রোড টিলাবাড়ী এলাকার জেলে রশিদ ও সাব্বির জানান, মা ইলিশের অভিযানের কারণে আমরা গতকালই নৌকা ডাঙায় উঠিয়ে রেখেছি। আগামি ২২ দিন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবো।

চাঁদপুর মাছঘাটের ব্যবসায়ী শামছুল আলম জানান, গত ২ মাস আমরা প্রচুর পরিমাণে ইলিশ বিক্রি করেছি। এখন ইলিশ প্রজননের কারণে আমাদের মাছ ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পুরো আড়তই ফাঁকা। এ সময় সবাই অলস সময় পার করবে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি বলেন, ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য জেলা টাস্কফোর্স খবুই কঠোর অবস্থানে আছেন। কোন অবস্থাতেই কোন জেলেকে নদীতে নামতে দেয়া হবে না। আমাদের টাস্কফোর্সের টিম সার্বক্ষণিক নদীতে থাকবে। জেলেদের নিয়ন্ত্রণ করতে আমরা প্রয়োজনে র‌্যাবের সহযোগিতা নিব।

১৫ অক্টোবর, ২০২০।