নিষিদ্ধ মৌসুমে ইলিশ ধরতে জাল বুনে চলেছেন চাঁদপুরে জেলেরা

মনিরুল ইসলাম মনির
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ শিকার নিষেধ করা হলেও ইলিশের এই প্রজননের সময় বসে নেই চাঁদপুরের মতলব উত্তর, চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের করে মাছ শিকারীরা। অন্য বছরের চেয়ে এবার তার রেকর্ড পরিমাণ নতুন কারেন্ট জাল ও নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অভিযোগ উঠেছে, জেলেদের মাছ ধরার সুবিধা বাগিয়ে দিতে তৎপর রয়েছে একটি মহল।
জেলায় নিবন্ধিত জেলে ৫১ হাজার জন হলেও মাছ শিকারে জড়িত প্রায় ৫ হাজার জেলে।
সরজমিনে, জেলার মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর, ষাটনলে মালোয়পাড়া, চাঁদপুর সদরের বড়স্টেশন, চরাঞ্চল ও হাইমচর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে উন্মুক্তভাবেই জেলেরা নতুন জাল বুনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংবাদকর্মীদের দেখে অধিকাংশ জেলেরা পালিয়ে গেলেও ইলিশ ধরা অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরির সময় দেখা মেলে এখলাছপুর, ষাটনল এলাকার কয়েকজন অভাবী জেলেদের। তখন জেলে মুক্তার, জমশেদ ও হয়েকৃষ্ণ জানান, মাছ ধরেই তাদের জীবিকা। তবে সাড়া বছর তেমন ইলিশ পাওয়া যায় না। নিষেধাজ্ঞার মৌসুমেই মেলে প্রচুর ইলিশ। তাই অভাবের সংসার চালাতেই জাল তৈরি করছি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, নিজেদের পেটের কথা চিন্তা করে প্রশাসনের ভয়-ডর উপেক্ষা করে আমরা সবাই মাছ ধরছি। তবে অন্য বছরের মতো মাছ ধরতে যাতে সমস্যা না হয় নৌ-পুলিশ ও মৎস্য অফিসের কারো-কারো সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্যজীবী প্রতিনিধি ইমাম হোসেন জানান, এবার অনেকেই গোপনে জাল তৈরি করেছে বলে শুনেছি। তবে সবাইকে মিটিং করে মাছ না ধরার জন্য অনুরোধ করেছি। না শুনলে আমি নিজেও অভিযানে শরীক হয়ে অসাধু জেলেদের ধরে দেবো। তবে আমাদের বেকার জেলেদের যে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে তা একেবারেই অপ্রতুল। আবার নিবন্ধিত ও অনিবদ্ধিত জেলেরাও পাচ্ছে না।
মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি ও সচেতন মহল নিয়ে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, আমরা এবার অসাধু জেলেদের কোনো ভাবেই ইলিশ শিকার করতে দেবোনা। জাল নৌকা দেখলেই ধরা হবে।
ইলিশ রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চেয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নেহাশিষ দাশ জানান, আমরা দুই সপ্তাহ আগে থেকেই মা ইলিশ ধরা বন্ধে জেলে ও সচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে আসছি। আসা করছি আমরা এবার সফল হবো। অসাধু জেলেদের অপতৎপরতা অবশ্যই রুখে দেওয়া হবে।
১৪ অক্টোবর, ২০২০।