প্রতিদিন আঁকাবাঁকা পা দু’টিতে হেঁটে নিজের ছোট্ট দোকানটিতে যান মাজহারুল

সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত প্রতিবন্ধী

আহসান হাবীব সুমন
অস্বাভাবিক হলেও এটাই তার স্বাভাবিক জীবন। দুই হাত ও দুই পায়ের স্বাভাবিকতা হারিয়েছেন জন্ম থেকেই। তবুও দমে যাননি কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের অভয়পারার গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে মাজহারুল ইসলাম।
শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও কারো কাছে হাত না পেতে নিজ এলাকায় রাস্তার পাশেই ছোট্ট একটি দোকান দিয়ে করছেন হাতের সুকৌশলে মোবাইল সার্ভিসিং, মোবাইল রিচার্জ ও ইলেক্ট্রনিক্সের যাবতীয় খুঁটিনাটি কাজ।
এই অস্বাভাবিক হাত ও পাগুলোকে মানিয়ে নিয়েছেন স্বাভাবিক যন্ত্রগুলোর সাথে। শুধু তাই নয়, শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও কারো কাছে হাত না পেতে তার অদৌম্য ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সে ইলেক্ট্রনিক্স কাজের পাশাপাশি নিখুঁতভাবে করছেন ফটোশপের কাজও। তার এই আঁকাবাঁকা হাতগুলোই এখন পরিবারের একমাত্র চালিকা শক্তি। তার বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার সম্প্রতি মারা যান। বাবা মারা যাওয়ার পরিবারের দৈনিক খরচ জোগাতে ছোট্ট দোকানটির উপার্জিত আয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় পরিবার সব সদস্যদের।
অসচ্ছল সংসারে তিনি এই ছোট্ট দোকানটির উপার্জিত অর্থদিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন কোনরকম। জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী হয়েও এখনো মেলেনি কোন প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা সরকার থেকে অন্যকোন কোন সহায়তা। নিজের কাজ করার ইচ্ছা শক্তি থাকা সত্বেও পর্যাপ্ত যন্ত্রাংশ ও অর্থাভাবে পড়ছেন পিছিয়ে।
তাই সরকারি বেসরকারি একটু সহায়তা পেলে তিনি দোকানটির কর্মপ্রক্রিয়া বৃদ্ধির পাশাপাশি মা-বোনকে নিয়ে একটু ভালোভাবে চলতে পারতেন। তিনি মনে করেন প্রতিবন্ধী হলে কেউ যেনো কারো কাছে হাত না পেতে ভিক্ষাবৃত্তি না করে নিজের ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কাজ করে খান।
মাজহারুল ইসলামের মা নিলুফা বেগম চোখের পানি ছেরে দিয়ে বলেন, আমার ছেলে মাজহারুল ইসলাম জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতা পাইনি। সরকার যদি আমার অসহায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে কোন ধরনের আর্থিক সহযোগিতা করতেন তাহলে ভালভাবে ছোট্ট দোকানটিতে মালামাল তুলে কোনভাবে বাকি জীবন পার করে দিতে পারতো।
মাজহারুল ইসলাম আর কতদিন অপেক্ষা করলে পেতে পারে প্রতিবন্ধী ভাতার বই অথবা সরকারি কোন আর্থিক সহযোগিতা- এমন প্রশ্ন রয়ে গেল?
২৫ মার্চ, ২০২১।