প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় অকালে প্রাণ ঝড়ছে!
ইলশেপাড় রিপোর্ট
ফরিদগঞ্জে প্রাণঘাতী অবৈধ ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্যে প্রতিনিয়তই সড়কে তাজা প্রাণ ঝড়ে পড়ছেই। বেপোরোয়া এমন অবৈধ যানবাহনে কেবল প্রাণই ঝড়াচ্ছে না, সাথে জেলার সবগুলো সড়ককে
করছে চলাচলের অযোগ্য। এতে করে সাধারণ মানুষের জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে। অবৈধ এইসব ট্রাক্টর বন্ধে গত ৫ বছরে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা দৃশ্যমান না থাকায় প্রাণহানীসহ জেলার সড়ক ব্যবস্থায় নাজুকতা বিরাজ করছে। ফরিদগঞ্জ ছাড়া চাঁদপুরের অন্যান্য উপজেলায় ট্রাক্টর চলাচল অনেকটা কম থাকলেও ফরিদগঞ্জে ট্রাক্টর চলে দিন-রাত। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
ফরিদগঞ্জের সর্বসাধারণ দাবি জানিয়েছে, অবৈধ এসব ট্রাক্টর বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তাহলে জেলায় প্রাণহানীসহ গ্রামীণ সড়ক ব্যবস্থায় নাজুক পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সাথে বেঁচে যাবে অনেক সম্ভাবনাময় তাজা প্রাণ। সাশ্রয় হবে বছর-বছর সড়ক অবকাঠামো ব্যয়।
এদিকে গত শুক্রবার ফরিদগঞ্জে অবৈধ একটি ট্রাক্টরের চাপায় মামুন (৫) নামের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার আমিরা বাজার এলাকায়। নিহত শিশু মামুন পার্শ¦বর্তী রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মলয়েশিয়া প্রবাসী টিটু মিয়ার একমাত্র ছেলে। সে গত শুক্রবার তার মা মুন্নি বেগমের সাথে ফরিদগঞ্জের বিষুরবন্দ গ্রামের হাজি বাড়িতে (নানা বাড়ি) বেড়াতে এসেছিলো।
স্থানীয়রা বলছে, শিশু মামুন তার মায়ের সঙ্গে আমিরা বাজার থেকে হেটে নানার বাড়িতে ফিরছিল। রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতিতে খাজুরিয়া বাজার হতে আসা ট্রাক্টরটি শিশুটিকে চাপা দেয়। স্থানীয়রা শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করে।
জেলার সচেতন মহল বলছে, চাঁদপুরে সাবেক পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের সময়কালে অবৈধ ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযান চলমান থাকায় চাঁদপুরে এই প্রাণঘাতী যানবাহানগুলো শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিলো। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের বিদায়ের পর আস্তে-আস্তে আগের রুপে ফিরে আসে ঘাতক ট্রাক্টরের চলাচল। চাঁদপুরের অন্যান্য উপজেলায় এখনো অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফরিদগঞ্জ উপজেলার সর্বত্রই ট্রাক্টর চলে দিন-রাত।
স্থানীয়রা বলছে, ইটভাটা মালিকরা অতি মুনাফার লোভে এইসব ট্রাক্টর ব্যবহার করে আসছে। তারা ইট ভাটার মাটি ও প্রস্তুতকৃত ইট গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করছে ট্রাক্টর। এতে করে জেলার সব উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোর অবস্থা যান চালাচলের অনুপযোগী করে তুলছে।
তবে চাঁদপুর জেলায় কি পরিমাণ অবৈধ ট্রাক্টর আছে তার কোন নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই কারো কাছে। কেবলমাত্র ইটভাটা ও গ্রামীণ হাট-বাজারের মালামাল বহনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে এইসব ট্রাক্টর। সারা বছরজুড়েই গ্রামীণ সড়কগুলোতে অনুমোদনহীন এসব ট্রাক্টরগুলো চলাচল করছে অনভিজ্ঞ চালক দ্বারা। যার কারণে প্রাণহানীর মতো ঘটনাগুলো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়ে উঠছে। সাথে গ্রামীণ সড়কগুলোও সর্বসাধারণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠছে।
এমন পরিস্থিতিতে জেলার গ্রামীণ সড়কগুলোতে খালি পায়ে হাটা-চলা দুস্কর হয়ে পরছে। প্রভাবশালী আর রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এসব অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল করায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। এতে করে সাধারণ মানুষের জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে পড়ছে হরহামেশাই। সাথে জেলার কোথাও না কোথাও প্রায়ই প্রাণহানীর মতো খবর তো থাকছেই।
এমন পরিস্থিতি জেলার সাধারণ মানুষ দাবি করছে, অবৈধ এইসব ট্রাক্টর বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সাথে জেলা প্রশাসন জেলার ইট ভাটাগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ এসব ট্রাক্টর জব্ধ করলে আবারো শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এজন্য জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ইট ভাটা মালিকদের ডেকে এনে সতর্ক করাসহ আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
৩০ আগস্ট, ২০২১।
