মতলবে হেফজ বিভাগের ছাত্র মারাত্মক জখম

মাদ্রাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাতে

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
মতলব দক্ষিণে মাদ্রাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাতে হেফজ বিভাগের এক ছাত্র মারাত্মক জখম হয়েছে। গত ৩০ মার্চ বেলা ১২টায় মতলব পৌরসভার চরমুকন্দি দারুল কোরআন হাফেজিয়া ও নূরাণী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের কালিয়াইশ গ্রামের মো. নবীর হোসেনের ছেলে মো. আশেক এলাহী (১৬) মতলব পৌরসভার চরমুকন্দি দারুল কোরআন হাফেজিয়া ও নূরাণী মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্র হিসেবে পড়ালেখা করতো। গত ৩০ মার্চ বেলা ১২টার দিকে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে প্রতিদিনের মতো ছাত্রদের ক্লাস নিচ্ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মো. রাকিব হোসেন। ওই সময় ছাত্রদের ক্লাসে পড়ানোর সময় মো. আশেক এলাহী মুখস্ত পড়া দিতে দেরি করলে শিক্ষক রাকিব হোসেন তাকে এলোপাথারি বেত্রাঘাত করে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে আহত অবস্থায় আশেক এলাহী মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে যায়। বাড়ি আসার পর আশেক এলাহীর অবস্থা বেগতিক দেখে তার বাবা-মা স্থানীয় নারায়ণপুর গ্রীনলাইফ হাসপাতালে এনে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আহত আশেক এলাহী জানান, আমাদের মাদ্রাসার শিক্ষক রাকিব হোসেন আমি ক্লাসে পড়া দিতে দেরি করায় আমাকে সব ছাত্রের সামনে জালি বেত দিয়ে মেরে আহত করে। পরে আমি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসি। পরে আমার বাবা ও মা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। রাকিব স্যার আমাকে মারার পর বলেছে, যদি কারো কাছে বলি তাহলে আবারো আমায় মারবে। তাই ভয়ে আমি পালিয়ে বাড়ি চলে আসি।
আহত আশেক এলাহীর বাবা মো. নবীর হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে যে শিক্ষক বেত্রাঘাত করেছে আমি তার ন্যায়বিচার চাই এবং শাস্তি চাই।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালক মো. শরীফুল্লাহ পাটোয়ারি বলেন, ঘটনার সময় আমি মাদ্রাসায় ছিলাম না। পরবর্তীতে জানতে পেরে আহত ছাত্রকে দেখতে আসি। তবে সব শিক্ষককে নির্দেশনা দেওয়া আছে, কোন ছাত্রকে যেন বেত্রাঘাত না করে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আমি বহিষ্কার করবো এবং ছাত্রের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ ওই শিক্ষককে বহন করতে হবে।
অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. রাকিব হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
০১ এপ্রিল, ২০২১।