শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে ৩ শিক্ষক আটক

স্টাফ রিপোর্টার
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠিত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ফরাক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ৩ শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। গত রোববার (১৯ জুলাই) রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহিদ পারভেজ চৌধুরীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মডেল থানার এসআই রেজাউল করিম ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ আইসিটি ক্যাব থেকে শিক্ষকদের আটক করেন।

আটক শিক্ষকরা হলেন- ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজের ইসলামি ইতিহাসের শিক্ষক ডা. জাহাঙ্গীর আলম, কলেজের আইটি ইনচার্জ নোমান সিদ্দিকী ও ফরক্কাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক এবিএম আনিসুর রহমান। আটক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ১৯/৩১ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
গত সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহিদ পারভেজ চৌধুরী প্রেস ব্রিফিং এ বলেন, আসামিরা আয়শা খন্দকার ও শিক্ষক জাহাঙ্গির হোসেন জয় আহমেদ নামে দুটি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি এবং সরকারি বেসরকারি সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ও জেলার সম্মানিত রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা, বানোয়াট, মানহানিকর তথ্য বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করে আসছিল। তারা মধ্যপ্রাচ্যের তাদের সহযোগী আসামিদের মাধ্যমে সিম সংগ্রহ করে তা প্রচার ও প্রকাশ করে আসছিল। তাছারা এ চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তিদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নামে-বেনামে বিভিন্ন সরকারি অফিসে মিথ্যা বানোয়াট মানহানীকর তথ্য সম্বলিত চিঠিপত্র, ই-মেইল, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার গ্রুপেসহ ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে অপরাধ কার্যক্রম করে আসছিল।
তিনি আরো জানান, গত এপ্রিল মাসের শুরুতে কুমুরুয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. হান্নান মিজি চাঁদপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে। এরপর চাঁদপুর মডেল থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তের আলোকে তাদের আটক করা হয়।
চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন জানান, আইসিটি আইনে এ মামলায় আদালত থেকে সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে এই অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনকভাবে ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ওই ৩ শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে থানায় একটি জিডিও রয়েছে। ভুয়া ফেক আইডি ব্যবহার করে এসব শিক্ষকরা নানা অপপ্রচারে জড়িত ছিলো বলে অভিযোগ রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে রিমান্ড চাওয়া হবে।
ওসি আরো জানান, আইসিটি মামলায় বাদী ওই এলাকার মো. হান্নান মিজি। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে ওই চক্রটি শিক্ষামন্ত্রীসহ বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে নানা অপপ্রচার করে আসছে।
২২ জুলাই, ২০২০।