সোমবার চাঁদপুরের ৪০ গ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদুল ফিতর উদযাপন

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে সোমবার (২ মে) হাজীগঞ্জসহ জেলার ৪০ গ্রাম ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তারা হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর আল্লামা মোহাম্মদ ইসহাক চৌধুরীর অনুসারী। গত ৯৩ বছর সৌদিআরবের সাথে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন তারা।
সোমবার ঈদ উদযাপনের বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নিশ্চিত করেছেন, সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীরের দৌহিত্র ও মরহুম পীর মাওলানা আবু যোফার আব্দুল হাই সাদ্রাভীর ছেলে মাওলানা মুহাম্মদ আরীফ চৌধুরী সাদ্রাভী।
তিনি বলেন, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আমরা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। রোববার মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখা গেছে। তাই মুসলিম বিশ্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ৩০ রোজা শেষ করে আমরাও তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবো।
তিনি আরো বলেন, সোমবার সকাল ৯টায় সাদ্রা ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আরো বিভিন্ন এলাকায়ও ঈদের জামাত হবে।
এদিকে রোববার (১ মে) সাদ্রা দরবার শরীফের একাংশ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। প্রথম চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে এবং ভোররাতে ঘোষণা দিয়ে রোববার হাজীগঞ্জের সাদ্রা হামীদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদারাসা মাঠে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের জামাতে ইমামতি করেন সাদ্রার মরহুম পীরের ছেলে মুফতি জাকারিয়া আল মাদানী। তিনি বলেন, শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আফ্রিকার দেশ নাইজার, মালি ও এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানে চাঁদ দেখার খবর পাই। এরপর তা যাচাই-বাছাই করে ভোররাতে আমরা ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, সৌদিআরবের সাথে মিল রেখে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে কোরআন ও হাদিসের আলোকে আমরা ঈদ উদযাপন করে থাকি। যার ফলে সর্বপ্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখি এবং ঈদ উদযাপন করি। তাই আমাদের এখানে এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের মাঝে আগাম ঈদ উদযাপনকারীদের নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীরের ছেলে মুফতি জাকারিয়া আল মাদানীর অনুসারীরা রোববার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। তাদের ২৯টি রোজা পূর্ণ হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে প্রতি বছর চাঁদপুর জেলার তিনটি উপজেলার ৪০ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়ে আসছে। সাদ্রা দরবার শরিফের অনুসারীরা ৯৩ বছর ধরেই প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে সাদ্রাসহ চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামে ঈদ উদযাপন করে থাকেন।
এছাড়া চাঁদপুরের পাশের নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, চট্টগ্রাম ও শরীয়তপুর জেলার কয়েকটি স্থানে মাওলানা ইছহাক খানের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।
সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আল্লামা মোহাম্মদ ইসহাক ইংরেজি ১৯২৮ সাল থেকে প্রথম চাঁদ দেখার উপর মিল রেখে ইসলামের সব ধর্মীয় রীতিনীতি প্রচলন শুরু করেন। মাওলানা ইছহাকের মৃত্যুর পর থেকে তার ৬ ছেলে এ মতবাদের প্রচার চালিয়ে আসছেন।
জানা গেছে, সাদ্রাসহ ঈদ উদযাপন করা গ্রামগুলো হলো, হাজীগঞ্জ উপজেলার বলাখাল, দক্ষিণ বলাখাল, শ্রীনারায়নপুর, মনিহার, বড়কুল, অলীপুর, বেলচোঁ, রাজারগাঁও, জাকনি, কালচোঁ ও মেনাপুর।
ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, শোল্লা, রূপসা, বাসারা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী, নয়ারহাট, মতলবের মহনপুর, এখলাসপুর, দশানী, নায়েরগাঁও ও বেলতলীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম।

০২ মে, ২০২২।