মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে আরো ৪ জন মারা গেছেন। সোমবার (৮ জুন) মৃতদের করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। রোববার দিবাগত রাতে ও সোমবার সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে তারা মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের বাজনাখাল-চাঁদপুর গ্রামের কাজী বাড়ির মো. শাহজাহান (৬৫), হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের কাঁঠালি গ্রামের সোলায়মান পাটওয়ারী (৬৫), গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ডাটরা-শিবপুর গ্রামের সর্দার বাড়ির মাওলানা এনায়েত উল্লাহ (৬০) ও হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন এনায়েতপুর এলাকার বেপারী বাড়ির ইসমাইল হোসেন (৫৫)।
সোমবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃতদের দাফন সম্পন্ন করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাজীগঞ্জ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবকরা। মাও. যোবায়ের আহমেদ ও হাফেজ মো. শাহাদাত হোসেন প্রধানীয়ার নেতৃত্বে দু’টি টিম মৃতদের দাফন কাজে অংশ নেয়।
কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা স্বপন জানান, বাজনাখাল-চাঁদপুর গ্রামের মো.শাহজাহান জ্বর, সর্দি, কাঁশি নিয়ে রোববার দুপুরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন এবং এদিন রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন লিটু জানান, কাঁঠালি গ্রামের সোলায়মান পাটওয়ারী (৬৫) রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান।
গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাচ্চু জানান, ডাটরা শিবপুর গ্রামের মাওলানা এনায়েত উল্লাহ মাস্টারের জ্বর ও কাশি ছিল। সোমবার সকালে তার মৃতদেহ দাফন করা হয়েছে।
পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আজাদ মজুমদার জানান, সকাল এনায়েতপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন সকাল ৭টায় নিজ বাড়িতে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম সোয়েব আহমেদ চিশতি বলেন, মৃত ৪ জনের মধ্য একজন চাঁদপুর সদর হাসপাতালে মারা যান। হাজীগঞ্জে মৃত তিনজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হাজীগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে প্রতিনিয়ত সর্দি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে লোকজন মারা যাচ্ছেন। এর মধ্যে রোববার দু’জন, শনিবার ৫ জন এবং শুক্রবার ৫ জন মারা যান। এতে স্থানীয় এবং এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
০৮ জুন, ২০২০।
