হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদী থেকে উদ্ধার যুবকের দাফন সম্পন্ন

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্

হাজীগঞ্জে ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ আব্দুল করিম (২৫) এর উদ্ধারকৃত মরদেহের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাত ১০টায় টোরাগড় দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বিকালে পৌরসভার টোরাগড় এলাকার ডাকাতিয়া নদীর টোরাগড়-বড়কুল খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় আব্দুল করিম।
খবর পেয়ে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা নিখোঁজের একঘণ্টা পর আব্দুল করিমকে মৃত অবস্থায় নদীর তলদেশ থেকে উদ্ধার করে। সে ওই গ্রামের ফকির বাড়ির মৃত দাইমুদ্দিনের ছেলে। জান্নাতুল ফেরদৌস নামের তার দেড় বছরের এক শিশু সন্তান রয়েছে। কয়েকমাস যাবৎ আব্দুল করিম মানসিক সমস্যা ভুগছিলেন বলে স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। প্রতিদিন সে ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটতো।
নিহত আব্দুল করিমের বোন আইরিন আক্তার জানান, প্রতিদিনের মতো আজও ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে যায় আব্দুল করিম। এরপর সে নদীর এপাড় থেকে ওপাড়ে সাঁতার দিয়ে যাওয়ার সময় নদীর মাঝখানে ডুবে যায়। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস, হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্যের ডুবুরি দল উদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেয়।
উদ্ধার কার্যক্রমের এক পর্যায়ে ডুবুরি নুরুল ইসলাম নদীতে নামার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই মৃত অবস্থায় নিখোঁজ আব্দুল করিমের মরদেহ উদ্ধার করে। তাকে সহযোগিতা করে অপর ডুবুরি মো. আমিনুল ইসলামসহ হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা।
স্থানীয়রা জানান, গত এক বছর যাবৎ নিহত আব্দুল করিমের মাথায় সমস্যা (মানসিক সমস্যা) দেখা দেয়। যার কারণে দেড় বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যায়। তারা বলেন, আব্দুল করিম প্রতিদিন ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটে। সে নদীর এপাড় থেকে ওপাড়ে যায়। আজও নদীর ওপাড়ে যেতে গিয়ে নদীর মাঝে ডুবে যায় করিম।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, ডাকাতিয়া নদী থেকে নিখোঁজ যুবক আব্দুল করিমের মরেদহ উদ্ধার করে ডুবুরি নুরুল ইসলাম।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়া নিহত করিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

২৭ মে, ২০২১।