হাজীগঞ্জে মা হারা দুই শিশুর পাশে ইউএনও

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে মা হারা মদিনা ও মরিয়ম নামের দুই জমজ শিশুর পাশে দাঁড়ালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে তিনি শিশু খাদ্য কেনার জন্য জমজ শিশুর বাবার হাতে ৫ হাজার টাকা তুলে দেন। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মদিনা ও মরিয়ম উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের ফকির বাড়ির মুনছুর আলীর সন্তান।
এর আগে শিশুদের খাদ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন সাংবাদিক খালেকুজ্জামান শামীম। এরপর ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি আর্থিক সহযোগিতা করেন। এছাড়া সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন- প্রবাসী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়, শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম, মাহবুব, নাজমুল হাছান ও এনায়েত উল্যাসহ আরো অনেকে।
চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল মদিনা ও মরিয়ম পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে। কিন্তু জন্ম নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মা আরমিতা বেগমকে হারান দুই শিশু। আর বাবা মুনছুর আলী শিশুদের সময় দিতে গিয়ে চাকরিটাও হারান। তাছাড়া করোনার কারণে কোন কাজ-কর্ম না থাকায় শিশু খাদ্য কিনতে না পারায় দিশেহারা হয়ে পড়েন বাবা। বিষয়টি জানতে পেরে ফেসবুকে তুলে ধরেন সাংবাদিক খালেকুজ্জামান শামীম।
মদিনা ও মরিয়মের বাবা মুনছুর আলী জানান, তিনি ৭ হাজার টাকা বেতনে ঢাকায় একটি ফ্যাক্টরীতে চাকরি করেন। গত ১৭ এপ্রিল জমজ সন্তান জন্মদানের কয়েক ঘণ্টা পরই স্ত্রী আরমিতা বেগম মারা যান। এরপর তিনি মা হারা শিশুদের সময় দিতে গিয়ে সেই চাকরি হারান।
তিনি বলেন, বাজার থেকে শিশু খাদ্য কিনে তিনি বাচ্চাদের খাওয়ান। কিন্তু চাকরি এবং করোনাভাইরাসের কারণে গত ৪/৫ মাস কোন কাজ না থাকায় তিনি বেকার হয়ে পড়েন। তাই টাকার অভাবে গত কয়েকদিন যাবৎ শিশু মদিনা ও মরিয়মের জন্য খাদ্য সামগ্রী কিনতে পারেননি। এ সময় তিনি ইউএনওসহ অন্যান্য সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
১০ আগস্ট, ২০২০।