হাজীগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌ. দেলোয়ার হোসেন সমাহিত

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের কৃতী সন্তান মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমার উপস্থিতিতে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
গার্ড অব অনারে নেতৃত্ব দেন হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আবদুর রশিদ। এরপর মরহুম মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত জানাযায় সরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুধীসহ মরহুমের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক সচিব মমিনউল্লাহ পাটোয়ারী বীরপ্রতীক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার, সংগঠক লায়ন মাহমুদ হাসান খান ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ আরো বেশ কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তি।
মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চাঁদপুর শহরের নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়েসহ অসংখ্য সহযোদ্ধা রেখে গেছেন। তিনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সম্মুখসারীর যোদ্ধা হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি আছে। তিনি চাঁদপুরে মুক্তিফৌজ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।
মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন একাধারে ছিলেন একজন সুবক্তা, লেখক ও গবেষক। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে বীরত্বের সঙ্গে লড়ে শত্রুবাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন। তারপর থেকে আমৃত্যু পরাজয় নামক শব্দটিকে ঘৃণা করতেন। যে কারণে মৃত্যুর আগেও লেখে যান, ‘এক শত টাকার ওষুধ সারাবে করোনা’। ডা. জাফরউল্লাহর এমন বক্তব্য পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর না ফেরার দেশে গেলেন লেখক, গবেষক, মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন।
তার ফেসবুক ওয়াল ঘুরে দেখা গেছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি একটি পোস্ট দেন, তাতে লেখা ছিল এক শত টাকার ওষুধে করোনা সারাবে। সেখানে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ডা. জাফরউল্লাহর এমন একটি বক্তব্য তুলে ধরেন।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শারীরিক নানা রোগে ভুগছিলেন দেলোয়ার হোসেন। এর মধ্যে ভোর রাতে কিছুটা অসুস্থবোধ করেন তিনি। পরে উপস্থিত কাউকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের নিকটাত্মীয় ডা. রফিকুল ইসলাম ফয়সাল জানান, খুব সম্ভবত কার্ডিয়াক অ্যাটাকে মারা যান তিনি।
হাজীগঞ্জ উপজেলার অলীপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম নেন দেলোয়ার হোসেন। লেখক, গবেষক এবং একজন গুণী সংগঠক হিসেবে তার বেশ পরিচিতি ছিল। বিশ্বের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন। চাঁদপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ,জনস্বাস্থ্য এবং ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে তার অসংখ্য লেখা রয়েছে।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে মরহুমের শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান, পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব, উপজেলা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শিক্ষামন্ত্রীর শোক

চাঁদপুরে সর্বমহলে পরিচিত মুখ, বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যাঁর সরব উপস্থিতি ছিলো, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
তিনি এক শোকবার্তায় বলেন, দেলোয়ার ভাই আমার খুব প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। এই দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করতে যাঁদের অবদান অনস্বীকার্য সেই বীর সন্তানদের তিনি একজন। আমি তাঁর মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

জেলা জাসদের শোক

জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী, চাঁদপুর লেখক পরিষদের উপদেষ্টা, প্রাবন্ধিক ও মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯ টায় শহরের নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না….. রাজেউন)।
তাঁর মৃত্যুতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, জাসদ চাঁদপুরের সভাপতি অধ্যাপক হাসান আলী সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসন মজুমদার গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

১৬ জুন, ২০২০।