হাজীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে ১৬ কাউন্সিলরের মধ্যে ১৩ জন নতুন

 

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ পৌরসভায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৬ জনের মধ্যেই ১৩ জন নতুন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ বর্তমান পরিষদ থেকে বাদ পড়েছেন ১৩ জন কাউন্সিলর। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪ জনের মধ্যে সবাই এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২ জনের মধ্যে ৯ জন।
সাধারণ কাউন্সিলর পদে এই ৯ জনের মধ্যে ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ আবু বকর ছিদ্দিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহের দিন অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছেন। বাকি ৮ জন নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি। আর বিজয়ী ৩ জন কাউন্সিলর হলেন- ২নং ওয়ার্ড থেকে আলাউদ্দিন মুন্সী, ৪নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ জাহিদুল আযহার আলম বেপারী ও ৯নং ওয়ার্ডে আজাদ হোসেন মুন্সী।
সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে রোকেয়া বেগম আনারস প্রতীকে ৪৫৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর কাজলী রানী সরকার চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪২৮ ভোট। ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে মমতাজ বেগম মুক্তা জবা ফুল প্রতীকে ৪৪৯২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর সাহিদা বেগম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩২৪০ ভোট।
৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে মিনু আক্তার মিনু জবা ফুল প্রতীকে ২০৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর জোহরা বেগম পেয়েছেন টেলিফোন প্রতীকে ১৬৬৪ ভোট। ১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডে নাজমুন নাহার আক্তার ঝুমু আনারস প্রতীকে ২৮১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিবি হাওয়া চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ১১৬৪ ভোট। বর্তমান সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রেজিয়া বেগম জবা ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫৬ ভোট।
সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে মাইনুদ্দিন পাঞ্জাবি প্রতীকে ২০২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু তাজের লিটন ভুইয়া ব্লাকবোর্ড প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪১ ভোট। এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ১০৩ ভোট। ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আলাউদ্দিন মুন্সী ডালিম প্রতীকে ৬১৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাধাকান্ত রাজু গাজর প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯৩ ভোট।
৩নং ওয়ার্ডে মোহসিন ফারুক বাদল পাঞ্জাবি প্রতীকে ১২৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর রায়হানুর রহমান জনি টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭১ ভোট। ৪নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ জাহিদুল আযহার আলম বেপারী টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে ১৭৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম উটপাখি প্রতীকে পেয়েছেন ১২০১ ভোট।
৫নং ওয়ার্ডে সুমন তপদার পাঞ্জাবি প্রতীকে ১৫৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর রিটন চন্দ্র সাহা টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ১২৮১ ভোট।
৬নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ শাহআলম উটপাখি প্রতীকে ১৩৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ রাসেল মিয়া টেবিল ল্যাম্প প্রতীকে পেয়েছেন ১১০০ ভোট। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ আবু বকর ছিদ্দিক গত ২০ ডিসেম্বর অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান।
৭নং ওয়ার্ডে কাজী মনির উটপাখি প্রতীকে ২২২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর এমরান হোসেন মুন্সী পাঞ্জাবি প্রতীকে পেয়েছেন ৯৫৯ ভোট। ৮নং ওয়ার্ডে হাজি মো. কবির হোসেন ডালিম প্রতীকে ১২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর মুরাদ হোসেন মিরন পাঞ্জাবি প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯৯ ভোট।
৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. আজাদ হোসেন মজুমদার উটপাখি প্রতীকে ১৩৮০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোস্তফা কামাল পাঞ্জাবি প্রতীকে পেয়েছেন ১২৮০ ভোট। ১০নং ওয়ার্ডে মো. বিল্লাল হোসেন পাঞ্জাবি প্রতীকে ২০২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর খোরশেদ আলম ভুট্টো ডালিম প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫৯ ভোট।
১১নং ওয়ার্ডে মো. সাদেকুজ্জামান টেবিল ল্যাম্ব প্রতীকে ৭৬৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর শুকু মিয়া পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৩২৮ ভোট। ১২নং ওয়ার্ডে মো. শাহআলম উটপাখি প্রতীকে ৬৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম বেপারী পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩৪ ভোট।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া না গেলেও, কয়েকটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির খবর পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্র দখল ও ধানের শীষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন বিএনপির প্রার্থীর আলহাজ আব্দুল মান্নান খাঁন বাচ্চু।
নির্বাচনে ২৩,৬৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, বর্তমান মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ আব্দুল মান্নান খাঁন বাচ্চু পেয়েছেন ১১,৫৪৯। তাদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ১২,১০৮ ভোট।
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।