হানারচরে তালিকাভুক্ত জেলেরাও চাল পায়নি

সজীব খান
চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত জেলেরা চাল পায়নি। গত মঙ্গলবার হানারচর ইউনিয়নে চাল বিতরণ করা হয়। কিন্তু তাতে তালিকাভুক্ত জেলে ও চাল পায়নি এমনি তথ্য নিয়ে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকার্তার কার্যালয়ে কয়েকজন আসেন।
জানা যায়, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রবাসী বা স্বেচ্ছায় পেশা পরিবর্তন- এমন ধরনের জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে মৎস্য বিভাগ। এরপর মাঠে নেমে মৎস্য অধিদপ্তর জেলেদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। সে তালিকার জেলেও হানারচরে মঙ্গলবার চাল পায়নি।
বুধবার (৯ মার্চ) সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমানের কার্যালয়ে আসেন হানারচরের ৯নং ওয়ার্ডের ১৬১২ কার্ডধারী আমির হোসেন ভূঁইয়াসহ কয়েকজন। সেখানে আমির হোসেন ভূঁইয়ার ২০১৩২২০০৫৮০০১০৫৪ এনআইডি দিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসে তল্লাশি দিলে চূড়ান্ত তালিকায় সে হানারচরের ৯নং ওয়ার্ডের একজন জেলে- তার সত্যতা মিলে।
মৎস্যজীবী সমিতির নেতা তসলিম হোসেন গত মঙ্গলবার চাল না পাওয়া আমির হোসেনকে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসে নিয়ে আসে। এসময় তার সাথে জেলের এনআইডি কার্ড দিয়ে মৎস্য অফিসে চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম চলে আসে। সেখানে চাল না পাওয়া আমির হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, আমরা জেলে, নদী তীরবর্তী হয়েও তালিকায় নাম থাকার পর চাল পায়নি, আর নদীর পাশের না হয়েও অনেকে জেলে হয়ে চাল পায়। মৎস্যজীবী সমিতির নেতা তসলিম হোসেন হাওলাদার ও আমির হোসেনের কথায় একই সুর মিলান।
এ বিষয়ে হানারচর ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্তার রাঢ়ীর কাছে জানাতে চাইলে তিনি কোন বক্তব্য দেয়নি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। কেন তালিকাভুক্ত জেলেও চাল পায়নি, সেটা অনুসন্ধান করা হবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার হানারচরে আড়াই শতাধিক বাতিলকৃত জেলেদের ক্ষোভ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে প্রকৃত জেলেদের তালিকা সঠিকভাবে হালনাগাদের সময় তাদের বাতিল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জাটকা সংরক্ষণের জন্য মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জেলেদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এ দুই মাস তাদের ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার।

১০ মার্চ, ২০২২।