অযাচক আশ্রমে আন্তর্জাতিক মানের ধ্যানমন্দির নির্মাণ কাজ শুরু

স্বামী স্বরূপানন্দের পুণ্য জন্মস্থানে

স্টাফ রিপোর্টার
স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের পুণ্য জন্মস্থান চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে নির্মিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের ধ্যানমন্দির। ইতোমধ্যে মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়েছে মাটির নিচের পাইলিংয়ের কাজ।
গত সোমবার কাজ পরিদর্শন আশ্রম প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংস্কৃৃতিক সংগঠক তপন সরকার, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিমল চৌধুরী, চাঁদপুর সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুশীল সাহা, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, অনলাইন রক্তদাতা গোষ্ঠী জীবনদীপের কার্যকরী সদস্য মৃদুল কান্তি দাস, জেলা ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব গৌতম ঘোষ প্রমুখ।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মন্দির নির্মাণে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা বলেন, চাঁদপুরের মানুষ হিসেবে আমরা গর্বিত এ মাটিতে জন্ম নিয়েছেন স্বামী স্বরূপানন্দ, যার পরিচিতি আজ বিশ্বব্যাপী। যিনি আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন, পথহারা মানুষকে দিয়েছেন পথের সন্ধান, যিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন গড়ে তুলতে চেয়েছেন। যিনি সাম্প্রদায়িকতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে নির্দ্বিধায় বলেছেন, জগতের সকল সম্প্রদায় আমার, আমি সকল সম্প্রদায়ের। তিনি জাত-পাতকে প্রাধান্য দেন নাই, প্রধান্য দিয়েছেন প্রকৃত মানুষকে, মানুষের সততাকে। এই মহামানবের ধ্যানমন্দির নির্মাণ হলে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তবৃন্দ এখানে আসবে। তারা ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে। আমরা ধন্যবাদ জানাই তাদের, যারা এই মহামানবের পুণ্য জন্মস্থানে আন্তর্জাতিক মানের ধ্যানমন্দির নির্মাণ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টির সভাপতি ও আশ্রমের অধ্যক্ষ সুখরঞ্জন ব্রহ্মচারী জানান, স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের দেশ-বিদেশের ভক্তবৃন্দের দীর্ঘদিনের আশা ছিলো বাবামণির পুণ্য জন্মস্থানে আন্তর্জাতিক মানের দর্শনীয় একটি ধ্যানমন্দির নির্মাণ হোক, বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি। এখন বাবামণির কৃপায় ধ্যানমন্দির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে পৌরসভার অনুমোদিত নকসা অনুযায়ী। আশা করি চাঁদপুরবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সবার সহযোগিতায় ধ্যানমন্দির নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সব শ্রেণি-পেশার ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে এ স্থান মিলনমেলায় পরিণত হবে। পরিচিতি পাবে পুণ্য তীর্থস্থান হিসেবে।
তিনি আরো বলেন, ধ্যানমন্দির নির্মাণে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে। অত্যাধুনিক এই ধ্যানমন্দিরে বৃদ্ধাশ্রম, সাধু ভবন, স্বামী স্বরূপানন্দের স্মৃতি বিজড়িত জিনিসপত্রের সমন্বয়ে মিউজিয়াম, অডিটোরিয়ামসহ নীরব ধ্যান জপের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও ভারত সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় নির্মাণ হচ্ছে ছাত্রাবাস। যার কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উপস্থিতি কামনা করেছেন পরম আন্তরিকতায়।