আজ হাজীগঞ্জ পৌরসভার ভোটগ্রহণ

 

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পৌর এলাকা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
কে হবেন আগামি দিনের পৌর পিতা? তা জানার জন্য আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে পৌরবাসীকে। ৫ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে ব্যালেট পেপারের মাধ্যমে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়ার নেতৃত্বে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেনসহ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করার লক্ষ্যে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার কর্মকর্তারা ২০টি ভোট কেন্দ্র ও কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শন করেন।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১২টি ওয়ার্ডে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১২ জন পুলিশ ও ১০ জন আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। প্রচারণার শেষ দিনে মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা ব্যাপক প্রচারণা ও গণসংযোগ করেছেন। পুরো পৌরসভা জুড়ে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। মিছিল, পথসভা ও মাইকিংয়ে মুখরিত ছিলো সারাদিন। এখন ৪৫,৩৪৮ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার অপেক্ষায়।
এর আগে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররাও দলীয় ও নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে বিরামহীন প্রচারণায় সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি আমেজ। হাজীগঞ্জ বাজার, বলাখাল বাজার, এনায়েতপুর বাজার, ধেররা বাজার ও আলীগঞ্জ বাজার থেকে শুরু করে সর্বত্রই চলে প্রচারণা। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে ভোটের প্রচারণার কারণে ধর্মীয় সভাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা ম্লান হয়ে যায়। অর্থাৎ চারদিকে ভোট উৎসবের আমেজ।
নির্বাচনে মেয়র পদে বড় দুই রাজনৈতিক দলের দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, বর্তমান মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, সাবেক মেয়র আলহাজ আব্দুল মান্নান খাঁন বাচ্চু।
এছাড়া সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে সংরক্ষিত চারটি ওয়ার্ডে ১৫ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২টি ওয়ার্ডে ৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভার এই ১২টি ওয়ার্ডে ৪৫ হাজার ৩৪৮ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২২ হাজার ৯৫৫ জন এবং নারী ভোটার ২২ হাজার ৩৯৩ জন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকতার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৪৫,৩৪৮ জন ভোটার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের ২০টি কেন্দ্রে ভোট দিবেন। এই ২০টি কেন্দ্রে ভোটকক্ষের সংখ্যা ১২৮টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে ১৯টি। নির্বাচনে ২০ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১২৮ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও ২৫৬ জন পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকতা মো. ওবায়েদুর রহমান জানান, নির্বাচনে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১২টি ওয়ার্ডে ১২জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন এবং একজন মেজরের নেতৃত্বে দুই প্লাটুন বিজিবি এবং র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে স্ট্রাইকিং ফোর্স আইন শৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া কেন্দ্রে ১২ জন পুলিশ ও ১০ জন আনসার সদস্য থাকেব।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন। তিনি বলেন, ভোটের দিন কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো নির্বাচনী এলাকাতে কঠোর নজরদারিতে থাকবে।
৩০ জানুয়ারি, ২০২১।