হাজীগঞ্জেও মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি পায়নি সাংবাদিকরা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
আজ (৩০ জানুয়ারি) হাজীগঞ্জ পৌরসভার ভোটগ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের ২০টি কেন্দ্রে একটানা ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ কার্ড দেওয়া হলেও মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়নি। অথচ মফস্বল পর্যায়ের সাংবাদিকরা মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মোটরসাইকেল ব্যবহারের স্টিকার না পেয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা বিপাকে পড়েছেন।
নির্বাচন কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে নির্বাচন চলাকালে সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দিচ্ছেন না। শুধু আজ অনুষ্ঠিতব্য হাজীগঞ্জ পৌর নির্বাচন’ই নয়, গত অক্টোবর মাসে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনেও চাঁদপুর শহরের সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি মিলেনি। কিন্তু ঐদিন চাঁদপুর পৌর এলাকায় শত-শত মোটরসাইকেল চলাচল করেছে। সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নিতে পারেনি নির্বাচন অফিস। সব নিষেধাজ্ঞা শুধু সাংবাদিকদের বেলায়ই দেন তারা।
পৌরসভা নির্বাচনে ৪৫,৩৪৮ জন ভোটার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের ২০টি কেন্দ্রে ভোট দিবেন। এই ২০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন ও রিটার্নিং অফিসার। তাই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখন এসব কেন্দ্রের সংবাদ পরিবেশনের জন্য সংবাদকর্মীদের দৃষ্টি থাকলেও মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় সংবাদ সংগ্রহে তথ্যে ঘাটতির আশংকা করছেন সংবাদকর্মীরা।
সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৮.৫০ বর্গকিলোমিটারের এই পৌরসভায় মোটরসাইকেল ছাড়া সংবাদ সংগ্রহ করা হবে খুবই কষ্টকর। কারণ, মোটরসাইকেল বন্ধ থাকায় ভালো কিংবা মন্দ কোন খবর পেলে অথবা কোন ঘটনা ঘটে থাকলে, সংবাদকর্মীদের সময়মতো ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব হবে না। এতে করে সঠিক তথ্য কিংবা তথ্যের ঘাটতি বা তথ্য বিকৃতি ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের কাজে মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি না মিললেও সিএনজিচালিত স্কুটার, মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন সংবাদকর্মীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে সাংবাদিকদের মোটরসাইকেল ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে সাংবাদিকেরা চাইলে গাড়ি (সিএনজিচালিত স্কুটার, মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকার) ব্যবহারের জন্য অনুমতি (স্টিকার) নিতে পারবে।
গত ১৮ জানুয়ারি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার প্রজ্ঞাপন (স্মারক নং- ৩৫.০০.০০০০.০২০.০০৯.০৭৭.১৭-২৯) সূত্রে জানা গেছে, ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে ৬৩টি পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর ৩২ ধারা অনুযায়ী অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ২৯ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা হতে ৩০ জানুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক ও পিকআপ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।
২৮ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ দিবাগত মধ্যরাত ১২টা হতে ৩১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। এ নিষেধাজ্ঞা রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী/তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি/বিদেশি পর্যক্ষেকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য।
তাছাড়া নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি/বিদেশি সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং কতিপয় জরুরি কাজে যেমন এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কার্যক্রমে ব্যবহারের জন্য উল্লিখিত যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে উক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও জরুরি পণ্য সরবরাহ সহ অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরুপ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারবেন। বর্ণিতাবস্থায় উল্লেখিত যানবাহনসমূহ চলাচলের উপর বর্ণিত সময়সূচি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক/সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে এতদ্বারা ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।
এ নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বলবৎ করার জন্য এবং প্রয়োজনবোধে জনসাধারণের অবগতির জন্য ট্রাফিক সাইন প্রদর্শনের নিমিত্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তথ্য মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে বহুল প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন।
৩০ জানুয়ারি, ২০২১।