আমনের উৎপাদন খরচ নিয়ে হিমশিম কৃষক

মনিরুল ইসলাম মনির
মতলব উত্তরে রোপা আমন চাষ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। তারা বলছেন, বোরো আবাদের চেয়ে রোপা আমন চাষে খরচ কম হলেও অনাবৃষ্টি এবং সার ও ডিজেলের দাম বাড়ায় অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ার বোঝা মাথায় নিয়ে রোপা আমন চাষ করছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়ানোর রেশ কাটতে না কাটতেই সরকার ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। এখন লিটারপ্রতি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ টাকা।
উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার দেওয়ানজিকান্দি গ্রামের কৃষক মো. দুলাল জানান, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে চাষাবাদের খরচও বেড়েছে। প্রতি বিঘা জমি চাষ করতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। বর্তমানে এক বিঘা জমি চাষে মোট খরচ হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। তাতে আমন মৌসুমে ধান পাওয়া যাবে ১২ থেকে ১৪ মণ। ধান কাটা মৌসুমে ধানের মূল্য থাকে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ। সে হিসাবে ধানের উৎপাদন খরচই উঠবে না। এমন অবস্থা থাকলে চাষিদের পক্ষে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে।
উপজেলার ছেংগারচর বাজারের সার ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন জানান, ইউরিয়া সারের দাম প্রতি বস্তায় ৩০০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া ডিএপি, পটাশ ও এমওপি সারের দামও বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়েছে। সার ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষের খরচ বেড়েছে একরপ্রতি প্রায় ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা।
উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নাউরী গ্রামের কৃষক ফয়েজ আহমেদ দর্জি বলেন, খেয়েপরে বাঁচার তাগিদে ডিজেল ও সারের বাড়তি দাম মাথায় নিয়ে চাষাবাদ করছি। আর ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় জমিতে শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে পানি দিতে হচ্ছে। এতে খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান, সার ও ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে চাষাবাদে উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। তবে সারের কোনো ঘাটতি নেই। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২২।