ইজারাবিহীন সফরমালী গরুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা আতংকিত


মলম পার্টিসহ পকেটমারের দৌরাত্ম্য

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলার একমাত্র ইজারাবিহীন সফরমালীর গরুর হাটে মলম পার্টি দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। এছাড়া প্রতি হাটেই কোন না কোন ব্যবসায়ী বা ক্রেতার পকেট কাটাসহ বিভিন্ন কৌশলে টাকা-পয়সা চুরি অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবারের হাটে মলম পার্টি চক্র প্রায় দেড় লাখ টাকা ক্রেতা-বিক্রেতার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। বাজার কমিটি এ বিষয়ে একেবারে উদাসিন বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানিয়েছে। গরু কেনা-বেচা করা উভয়ের কাছ থেকেই রশিদ দিয়ে টাকা উত্তোলন করলেও বাজারের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে শনিবার সকালে বাজারে বাঁশের আড়ার সাথে গরু বাধা নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিষয়টি নিষ্পতি হলেও বাজারের আশপাশের মানুষের মাঝে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সফরমালীর গরুর হাটটি জেলার মধ্যে বড় বাজার হওয়ার পরও এ বাজারটি সরকারিভাবে ইজারা প্রদান করা হয়নি। সরকারিভাবে ইজারা না হওয়ায় প্রতি বছর এখান থেকে লাখ টাকা সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকার সচেতন মহলের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।
প্রতি বছর এ বাজারটি ইজারা হলে সরকারি কোষাগারে লাখ-লাখ টাকা জমা পড়বে বলে এলাকাবাসী দাবি করেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাজারটি একটি পরিবারের কাছে জিম্মি রয়েছে। তারা এলাকার কিছু ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে বাজারটি পরিচালনা করে আসছে। বাজারটি ইজারার মাধ্যমে পরিচালনা করার জন্য এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের সবার কাছে দাবি জানিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সফরমালীর গরুর হাটটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই এক পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ বাজারটি প্রতি সপ্তাহের সোমবার বসে। প্রতি বাজারে এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সড়ক ও নৌপথে কয়েক হাজার গরু আসে। এ বাজারে গরু আমদানি ও রপ্তানি বেশি হওয়ায় জেলা ও জেলার বাইরে থেকে শত শত ক্রেতা ও বিক্রেতা এখানে আসে। আর এ বাজারে গরু সড়কপথে নেয়ার জন্য শতাধিক ট্রাক ও নসিমন আসে। এ যানবাহনগুলো নির্বিঘেœ যাতায়াত করছে। কিন্তু এতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কগুলো নষ্ট হচ্ছে। আর সেই বাজারে সরকারের কোন ইজারা না থাকায় বাজারে আসাদের মাঝে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনে কিভাবে বাজারটি ব্যক্তি মালিকানায় পরিচালনা হচ্ছে- এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।
তাই বাজারটি দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে ইজারার ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

৪ আগস্ট, ২০১৯।