একাদশ পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা


চ্যাম্পিয়ন সরকারি মহিলা কলেজ, বাবুরহাট হাইস্কুল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল
স্টাফ রিপোর্টার
পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার এবারের ১১তম আসরে চাঁদপুর জেলায় চ্যম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, বাবুরহাট হাইস্কুল এন্ড কলেজ এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের ২টি শাখা। বহু কাক্সিক্ষত এবং জমজমাট এ ফাইনালটি গত সোমবার চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ ফাইনাল পর্বের অনুষ্ঠানটি সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে একটানা বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলে। দেশবরেণ্য এবং খ্যাতিমান সাহিত্য ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থেকে এ ফাইনাল পর্বটি উপভোগ করেন এবং চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলগুলো তাঁদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে।
পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন (সিকেডিএফ)-এর আয়োজনে প্রতিবছর এ প্রতিযোগিতাটি নতুন নতুন স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের স্লোগানটি ছিলো ‘এক দশক হলো পার, বিতর্ক হোক দুর্বার’। এবারের প্রতিযোগিতা দেড়শ’টি দল নিয়ে শুরু হয়। ২৬ জানুয়ারি মতলব দক্ষিণ উপজেলা দিয়ে শুরু হয় এ প্রতিযোগিতা। ৬ মাসের এ কর্মযজ্ঞের সফল সমাপ্তি ঘটে গত সোমবার। এদিকে এবারই প্রথম এ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ইংরেজি মাধ্যম বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল নির্বাচিত করা হয়। এরপর ৮টি উপজেলার চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলগুলো জেলা সদরে এসে বিভিন্ন পর্যায়ের বিতর্কে অংশ নেয়। পুরো বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি শিক্ষা স্তরের ৩টি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলো হলো প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ। এর সাথে এবারই প্রথম যোগ হয়েছে ইংরেজি মাধ্যম বিতর্ক। ফাইনালে এ চারটি মাধ্যমের আটটি বিতর্ক দল অংশ নেয়।
১৭ জুন জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলোঃ প্রাথমিক পর্যায়ে শাহরাস্তি ন্যাশনাল ভিক্টোরী স্কুল এন্ড কলেজ ও চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশানাল স্কুল (বাংলা মাধ্যম), মাধ্যমিক পর্যায়ে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাবুরহাট হাইস্কুল এন্ড কলেজ; কলেজ পর্যায়ে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ এবং ইংরেজি মাধ্যমে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশানাল স্কুল এন্ড কলেজ (ইংরেজি মাধ্যম)।
সকাল ৯টায় কলেজ পর্যায়ের বিতর্ক দিয়ে শুরু হয় ফাইনাল পর্বটি। ‘মন নয় বিবেকই মনুষ্যত্বের সবচেয়ে বড় পরিচায়ক’ বিষয়ের উপর পক্ষ দল ছিলো হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও বিপক্ষ দল ছিলো চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ। টান টান উত্তেজনাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ। আর রানার্সআপ হয় হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় চ্যাম্পিয়ন দলের দলপ্রধান আসিফা বিনতে হারুন। এ পর্বের সভাপ্রধান ছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সিসিডিএফ-এর মডারেটর অধ্যাপক অসিত বরণ দাস। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সিকেডিএফ’র উপদেষ্টা ও সিডিএ’র অধ্যক্ষ ডা. পীযূষ কান্তি বড়–য়া, মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আইনুন নাহার কাদরী ও বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি ব্যাংকার সামীম আহমেদ খান। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের কার্যকরী পরিষদের সদস্য রবিউল আউয়াল ও সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন সিকেডিএফ সদর উপজেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুল হাকিম নাহিন।
২য় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিযোগিতা। ‘ঝড়পরবঃু রং ঃযব সড়ঃযবৎ ড়ভ ড়ঁৎ াধষঁবং’ বিষয়ের উপর পক্ষ দল ছিলো চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও বিপক্ষ দল ছিলো চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ইংরেজি মাধ্যম)। অত্যন্ত জমজমাট এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ইংরেজি মাধ্যম)। আর রানার্সআপ হয় চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় চ্যাম্পিয়ন দল চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ (ইংরেজি মাধ্যম) এর দলপ্রধান রাজিমা চৌধুরী। এ পর্বে সভাপ্রধান ছিলেন চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রনজিত কুমার বণিক। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান ও সিকেডিএফ’র আজীবন সদস্য কাজী শামীম হোসেন। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশন চাঁদপুর সদর উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. হানিফ ও সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন সিকেডিএফ সদর উপজেলা কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য রত্না আক্তার।
৩য় পর্বে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতা। ‘নিয়মের কড়াকড়ি শিশুর বিকাশে সর্বদাই অন্তরায়’ বিষয়ের উপর পক্ষ দল ছিলো শাহরাস্তি ন্যাশনাল ভিক্টোরী স্কুল এন্ড কলেজ ও বিপক্ষ দল ছিলো চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (বাংলা মাধ্যম)। অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চাঁদপুর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (বাংলা মাধ্যম)। আর রানারআপ হয় শাহরাস্তি ন্যাশনাল ভিক্টোরী স্কুল এন্ড কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় চ্যাম্পিয়ন দল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের (বাংলা মাধ্যম), দলপ্রধান সামিহা রহমান শশী। এ পর্বে সভাপ্রধান ছিলেন বিশিষ্ট শিশু সংগঠক মতলব কচি-কাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাকসুদুল হক বাবলু। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সিকেডিএফ-এর আজীবন সদস্য ও হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমত আরা সাফি বন্যা, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী ও লেডী দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দা আনিছুন নাহার। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের কার্যকরী পরিষদের সদস্য শামীম হাসান ও সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন সিকেডিএফ সদর উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জায়েদুর রহমান নিরব।
সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় মাধ্যমিক পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতা। ‘অতৃপ্তি মানুষকে কখনো বড় করে না, সর্বদাই লোভী করে’ বিষয়ের উপর পক্ষ দল ছিলো মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বিপক্ষ দল ছিলো বাবুরহাট হাইস্কুল এন্ড কলেজ (স্কুল শাখা)। হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাবুরহাট হাইস্কুল এন্ড কলেজ (স্কুল শাখা) ও রানার্সআপ হয় মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় চ্যাম্পিয়ন দল বাবুরহাট হাইস্কুল এন্ড কলেজ (স্কুল শাখা)-এর দলপ্রধান সানিজদা আক্তার নীলা। এ পর্বে সভাপ্রধান ছিলেন সিকেডিএফ-এর উপদেষ্টা ও সিডিএ-এর অধ্যক্ষ ডা. পীযূষ কান্তি বড়–য়া। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন সূচিপাড়া ডিগ্রি কলেজের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম, সিকেডিএফ’র সহ-সভাপতি এএইচএম আহসান উল্যাহ ও সিকেডিএফ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সালেহ। সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন সিকেডিএফ মতলব উপজেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রোবেল হোসেন।
চারটি পর্বের প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা পর্ব। এরপর শুরু হয় ফলাফল ঘোষণা পর্ব। ফলাফল ঘোষণা করেন রাজন চন্দ্র দে ও সিডিএ’র উপাধ্যক্ষ রাসেল হাসান। একেকটি পর্বের ফলাফল ঘোষণার সাথে সাথে শ্রেষ্ঠ বক্তা, চ্যাম্পিয়ন দল ও রানার্সআপ দল অতিথিদের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দেশের খ্যাতিমান সাহিত্য ব্যক্তিত্ব, জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক মঈনুল আহসান সাবের, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মফিজুর রহমান, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি মারুফুল ইসলাম ও লেখক শাকুর মজিদ, স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘অন্যপ্রকাশ’-এর প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম ও সিরাজুল কবির চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধান ছিলেন পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান চাঁদপুরের কৃতীসন্তান দেশের প্রকাশনা শিল্পে ব্যতিক্রম ধারার উদ্ভাবক কামরুল হাসান শায়ক।