ফয়সাল আহম্মেদ
কচুয়ায় ক্ষিরাই নদীর পুনঃখননকৃত মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে মাটিখেকোরা। দিন-রাতে প্রায় ৬ মাস ধরে এমন কর্মযজ্ঞ চললেও দেখার কেউ নেই। অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এসব মাটি বিক্রি হচ্ছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামে। আবার এই মাটির মাধ্যমেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে কৃষিজ জমি। এতে করে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পরার শঙ্কা রয়েছে।
কৃষকের চাষাবাদের সুবিধার লক্ষ্যে বছরের শুকনো মৌসুমে ক্ষিরাই নদীর পানি ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ এর আওতায় মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও থেকে কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে উত্তর প্রান্তের ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৯.২ কিলোমিটার নদী ৪৮ বছর পর ৬ কোটি টাকার ব্যয়ে পুনঃখনন করা হয়। খননকৃত মাটি রাখা হয় নদীর দুই পাশের পাড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নদীর দুই পাড়ে স্তূপ করে রাখা পুনঃখননকৃত মাটি নদীর পাড়ের স্ব-স্ব জমির মালিক নিজেদের দাবি করে বিক্রি করে দেয়। যার ফলস্রুতিতে এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ ঘন মিটার মাটি কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। যার বাজার মূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাচার বাজারের উত্তর প্রান্তের ব্রিজ থেকে শুরু করে কচুয়ার সীমানা মধুপুর পর্যন্ত প্রায় ৫-৮টি অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে শুয়ারুল, আটেমোর, উজান ছিনাইয়া, ভাটিছিনাইয়া, উত্তর বেরকোটা যা (ইলিবিডা নামে পরিচিত), আতিশ^র, মধুপুর গ্রামে মাটি কাটা হচ্ছে, যা এখনো চলমান রয়েছে। ওইভাবে অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ে মাত্র আর কয়েকদিন চলমান থাকলে পুনঃখননকৃত নদীর দুই পাড়ের মাটি আর অবশিষ্ট থাকবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, ‘সরকারি মাল দরিয়াতে ঢাল’- এমন অবস্থা আমাদের দেশে। যে যেমন খুশি পারছে, তেমনিভাবে রাজনৈতিক নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাবশালী লোকজন দিনে পর দিন এমনিভাবে নদীর পুনঃখননকৃত মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। তারা আরো বলেন, সরকার যদি এসব মাটি নিলামের মাধ্যমেও বিক্রির ব্যবস্থা করতেন, তাহলে এখান থেকে সরকার অনেক রাজস্ব আদায় করতে পারতো। কিন্তু প্রশাসন নিশ্চুপ। মাটিখেকোরা এতোটাই প্রভাবশালী যে, তাদের নামও প্রকাশ করতে ভয় পায় এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর মধ্যে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। জোয়ার ও ভাটার সাথে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নদীর তলায় জমা হওয়া পলি মাটি, নদীর পাড়ের কোন জমির মালিকের হতে পারে না। এটি সরকারি সম্পত্তি। এই পুনঃখননকৃত মাটির মালিক সরকার। অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মাটি কাটায় ও জলাশয় ভরাট করায় জীব ও পবিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে জানান তারা।
সচেতন মহলের দাবি, অচিরেই যাতে এসব অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করে, এ ধরনের রাঘব-বোয়ালদের আইনে আওতায় নিয়ে আসে। তাহলে হয়তো মাটিখেকোদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং পরিবেশ সচেতনতা বাড়বে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসন সদাসর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।
১৬ ডিসেম্বর, ২০২২।
