৩টি হত্যা মামলাসহ ৩০ মামলার আসামি
জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
কুমিল্লায় তিনটি হত্যা মামলাসহ ৩০ মামলার আসামি ও তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করেছে বিজিবি। গত শুক্রবার গভীর রাতে কুমিল্লা সীমান্তের কেরানীনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে অস্ত্র-গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। গতকাল শনিবার বিকালে তাকে কোতয়ালী মডেল থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি। আটক রেজাউল করিম জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের আ. রাজ্জাকের ছেলে।
শনিবার (১৯ জুন) বিকালে বিজিবি কার্যালয় থেকে দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার গভীর রাতে ১০ বিজিবি’র অধীনস্থ গোলাবাড়ী পোস্টের একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কেরানী নগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। রাত ১টার দিকে ভারত হতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশরত এক ব্যক্তিকে দেখতে পায় বিজিবি’র টহলদল। তারা তাকে চ্যালেঞ্জ করলে সে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া করে ১টি ব্যাগসহ রেজাউল করিমকে আটক করা হয়। পরে ব্যাগ তল্লাশি করে ১টি .৩২ বোর রিভলভার, ম্যাগাজিনসহ ৪টি গুলি, ১৬ পিস ইয়াবা, এক প্যাকেট নতুন ধরনের ভারতীয় ‘কৌটা মাদক’, ভারতীয় ৩টি পরিচয়পত্র, ভারতীয় ইউসিবি ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ২টি, ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার ৭টি কার্ড, বাংলাদেশী নগদ টাকা ৭৮৫ টাকা এবং কাতারের ১০ দিরহাম উদ্ধার করা হয়।
১০ বিজিবি’র অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউর রহমান জানান, আটক রেজাউল কুমিল্লার শীর্ষ সন্ত্রাসী। সে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করে বাংলাদেশে হত্যা, রাহাজানি এবং ধর্ষনের মতো নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত ছিল। তার বিরুদ্ধে প্রায় ডজনখানেক হত্যা মামলাসহ অন্যান্য প্রায় ৩০টি মামলা চলমান রয়েছে।
রেজাউল কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক দেলোয়ার হোসেনের ঘাতক। দেলায়ার খুনের পর থেকে সে বেশিরভাগ সময়ই ভারতে অবস্থান করতো। ভারতীয় পাসপোর্টসহ দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াত। সে বিদেশ থাকলেও বিশেষ করে সীমান্তবর্তী চৌয়ারা ও আশপাশের এলাকায় অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতো সে। দেলোয়ার হত্যাকাণ্ড ছাড়াও ছাত্রলীগ কর্মী ‘রাসল’ ও ‘আপেল’ হত্যাকান্ডেরও মূল ঘাতক এবং রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ থানার এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণের মামলাও রয়েছে। যে কোন অপরাধ সংঘটিত করেই ভারতে পালিয়ে যেত।
আটকের পর রেজাউলের গ্রামের লোকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিহত দেলোয়ারের স্ত্রী জিলকজর নেছা বলেন, রেজাউল ও তার সঙ্গীরা আমাকে বিধবা ও আমার দুই শিশু সন্তানকে এতিম করেছে। আমি রেজাউলের সর্বোচ্চ বিচার চাই।
কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, রেজাউলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে আরো দু’টি মামলা দায়ের শেষে রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।
২০ জুন, ২০২১।
