চরফতেজংপুরে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে

স্টাফ রিপোর্টার
জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চরফতেজংপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ সরোজমিনে গিয়ে এলাকার একাধিক লোকজনের সাথে কথা বলে ঘটনা সাজানো বলে প্রমাণিত হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঐ এলাকার ছাত্তার খান নামের এক ব্যক্তি এক সময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা। গত ১৭ মার্চ মুজিব বর্ষের কর্মসূচিতে যাবার পথে ছাত্তার খানকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয় বলে তিনি এলাকার নিরীহ বাদশা, চাঁন মিয়া চকিদারসহ ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেন। আদৌ ওইদিন সকালে চরফতেজংপুর বাজারে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের কোন কর্মসূচি ছিল না। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে ছাত্তার খান মিথ্যা অভিযোগ করেন। অথচ বিকেলে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে ইউনিয়ন পরিষদে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়- ঘটনা ঘটে সকালে।
জানা যায়, আলুবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও চরফতেজংপুর স্কুল সংলগ্ন বাজারের একটা জায়গা নিয়ে রফিক ভূঁইয়া ও রুহুল আমিন বেপারীর সাথে দ্বন্দ্ব চলছে। এক পর্যায়ে রফিক ভূঁইয়াকে বিবাদী করে আদালতে মামলাও করা হয়। গত ১৭ মার্চ সকালে সেই জায়গার সীমানা দেখার জন্য আদালতের নির্দেশে একটি তদন্ত টিম সেখানে যায়। এ সময় জায়গার সীমানা দেখানো কেন্দ্র করে তৃতীয় পক্ষ ছাত্তার খান ও বাদশা চকিদারের সঙ্গে তর্ক-বির্তক এবং ধাক্কাধাক্কি হয়। মূলত এই ছিল প্রকৃত ঘটনা।
চরফতেজংপুর স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মুকবুল মাস্টার ও গ্রামের মুরব্বি খালেক শিকারী জানান, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধুকে কেউ অবমাননা করলে আমরা বরদাশত করতাম না। জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে ঝগড়া করে কেন মুজিব বর্ষের নাম ব্যবহার করা হল- আমরা এর বিচার চাই। বিশৃঙ্খলা করার জন্য এমন মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে ইব্রাহিমপুর ইউপির চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে। নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যারা আমার হয়ে নির্বাচনে কাজ করেছিল তারা চেয়ারম্যানের রোষানলের শিকার। দলের প্রভাব খাটিয়ে বিঋিণ্নভাবে হয়রানী করা হচ্ছে। তার জায়গা না হলেও চেয়ারম্যান আরেকজনের পক্ষ নিয়ে ঝামেলা করছে। এসব জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে।