স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে নতুনত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ৮ সদস্যকে সুসজ্জিত গাড়িতে বাড়িকে পাঠানো হলো। চাঁদপুর জেলার অবসরজনিত বিদায়ী পুলিশ সদস্যদের আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনায় ব্যতিক্রমী আয়োজন করলেন জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত এমন ৮জন পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সুসজ্জিত গাড়িতে করে তাদের কর্মস্থল চাঁদপুর থেকে নিজ বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ।
গত রোববার দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ লাইন্সে অবসরজনিত পুলিশ সদস্যদের বিদায় সংবর্ধনাকালে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। এ ধরনের আয়োজনে পুলিশ সদস্যরা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদের উপর অত্যন্ত আনন্দিত ও খুশি হয়ে তাকে মনভরে দোয়া করেন এবং নিজেদের এ পেশার জন্য গর্বিত বোধ করেন।
তাদের সংবর্ধনা প্রদানের উদ্দেশ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি পিকআপ ভ্যান ও একটি মাইক্রোবাসকে ফুলে ফুলে সুসজ্জিত করা হয়। এ সময় প্রত্যেককে সদস্যকে ফুল দিয়ে পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ স্বাগতম জানান।
সদ্য অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনাপ্রাপ্তরা হচ্ছে- পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) মো. মোখলেসুর রহমান, মো. আলমগীর মিয়া, উপ-পরিদর্শক মো. বোরহান উদ্দিন মিয়াজী, কনস্টেবল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মাহবুব আলম শেখ, মোহাম্মদ হানিফ পাটোয়ারী, মো. কবির হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরকার।
বিদায়কালে পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ সদ্যবিদায়ী সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জীবনের বড় একটি অংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টকর এবং একইসঙ্গে দায়িত্বশীল পদে চাকরি করে আপনারা বিদায় নিলেন। আপনারা জাতির গর্বিত সন্তান, আমরা আপনাদের অবদান ভুলবোনা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবো।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সে অনেক পুলিশ সদস্যের চাকরি জীবন শুরু হয়। তারপর কারও ৪০ বছর কারও ৪২ বছর দায়িত্ব পালন করতে করতে কেটে যায়।
তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি তারা পুলিশের জন্য তাদের সারা জীবন দিয়ে দেন। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকেও তাদের জন্য একটু সম্মান দেখানো প্রয়োজন মনে করে উচিত এ কাজটি করেছি। শেষ দিনের এই সম্মানটুকু তারা হয়তো আজীবন মনে রাখবেন যা’ ভুলার মত নয়। কারণ তারা ভাববেন, যে ডিপার্টমেন্টে জীবন কেটেছে তাদের কাছ থেকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নিতে পেরে নিজেদের তারা গর্বিত মনে করেছে। এসব বিষয়টি চিন্তা করে শেষ বিদায়লগ্নে তাদের জন্য এমন একটি আয়োজন করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।
০৭ ডিসেম্বর, ২০২১।
