চাঁদপুরে আ. লীগ নেতাকর্মীদের উদ্বেগ

শতাধিক আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা

ইলশেপাড় রিপোর্ট
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল মহল আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। আগামি নির্বাচনের আগে দেশী ও আন্তর্জাতিক মহল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় দলটি মনে করছে গত দুটি নির্বাচনের মতো এবার নির্বাচন নাও হতে পারে। যার কারণে প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা আগের মতো পাওয়া যাবে না ধারণা করছে দলটি।
যার কারণে টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটি মনে করছে নিজেদের জন্য আগামি নির্বাচন হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার জন্য এবারের নির্বাচনকে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নির্বাচনের কৌশলে ব্যাপক প্রার্থীতার পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দলটির নীতি নির্ধারকরা।
ইতোমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে শতাধিক বিতর্কিত প্রার্থী চিহ্নিত করছে দলটি। যারা আগামি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এমন খবরে চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যদের কর্মী-সমর্থকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। শতাধিক তালিকায় চাঁদপুরের দুটি আসন আছে বলে চাউর আছে। তবে শেষ পর্যন্ত আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চাঁদপুরের ৫টি আসনের মাঝে বিগত দুটি নির্বাচন নতুন দুইজনসহ পুরাতন তিনজন অনেকটাই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়াই বিজয়ী হয়েছে। তারা তেমন কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বিজয়ী হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নির্বাচিত সাংসদদের দুটি নির্বাচনে তেমন কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়নি। যার কারণে সব সংসদ সদস্যদের সমর্থকদের মাঝে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ বর্তমান সমীকরণকে সামনে রেখেই প্রার্থী বাছাইকে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। সাথে যারা বিভিন্ন কারণে যারা বিতর্কিত হয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ এসেছে তাদের এবার যে প্রার্থিতা দেওয়া হবে না, তা মোটামুটি নিশ্চিত বলে জানা গেছে।
তবে ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর-দক্ষিণ বরাবরই প্রত্যেক নির্বাচনে আলোচনায় থাকে বলে তৃণমূল কর্মীরা জানায় এবং এই দুই আসনেই প্রার্থী পরিবর্তন হয় বারবার। ফলে কর্মী-সমর্থকরা বলছে, মিরাকল কিছু না ঘটলে এবার এই দুই আসনে সবার আগে নতুন মুখ আসবে।
তবে প্রার্থিতা পরিবর্তন নির্ভর করছে অনেকটাই প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার উপর। যেসব প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জনসম্পৃক্ত থাকেননি এবং জনগণের কাছে যাননি এমনকি তাদের এলাকার গ্রহণযোগ্যতা কমে গেছে তাদের আর প্রার্থী করছে না দলটি। তার উপর সততা ও দলের প্রতি আন্তরিকতা কম এবং বিতর্কিত কর্মকান্ডে যারা জড়িত ছিলেন তাদের বাদ দেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে যে, তবে শেষ পর্যন্ত আগামি নির্বাচনে দলটি কতটা পরিবর্তন করবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থার ওপর। নির্বাচনে বিএনপি এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলের ওপর নির্ভর করবে দলটির প্রার্থী বাছাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, এখন থেকেই নির্বাচনী আসনগুলোতে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। আর কাজটি করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজেই। যার কারণে তিনশ’ আসনের প্রত্যেক সংসদ সদস্য ও প্রার্থীদের মাঝে কম-বেশি উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
একই সাথে আগমি ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন মুখ আসলে নির্বাচনী কৌশলের নতুন ছক আটবে দলটি। কেবল যারা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকবেন কেবল তারাই মনোনয়ন দৌঁড়ে এগিয়ে থাকবেন।
এমনকি কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পর দলটির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত মোতাবেক অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীকে বসিয়ে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে একটা নতুনত্বের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করবে দলটি। যাতে সাধারণ মানুষও দলটির এমন পরিবর্তনের ছোঁয়া দেখতে পায়। এমনই একটি পরিকল্পনার দিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এতেই চাঁদপুরের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ঘুম এখন হারাম হয়ে গেছে।

১৫ নভেম্বর, ২০২২।