চাঁদপুরে ইলিশ সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের অভিযান

শাহ্ আলম খান
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের নেতৃত্বে ইলিশ সংরক্ষণে মেঘনা ও পদ্মা নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টায় লঞ্চ ঘাট থেকে শুরু করে গতকাল রোববার (১ নভেম্বর) ভোর ৫টা পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চলে।
এতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অসীম চন্দ্র বনিক, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন্নাহার, ইমরান মাহমুদ ডালিম, সেলিনা আক্তার, মঞ্জুর মোর্শেদ, মো. উজ্জ্বল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আব্দুর রহিম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকীসহ ইলিশ সংরক্ষণে জেলা টাস্কফোর্সের সদস্য, জেলা ও নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকরা অংশ নেন।
এসময় একটি লঞ্চ ও বেশ কয়েকটি স্পিডবোট এই অভিযানে এমন শতাধিক ব্যক্তি যোগ দেন। অভিযান চলাকালে শহরের তিন নদীর মোহনায় মাছ ধরার সময় ৫ জেলেকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল হোসাইন আর্থিক জরিমানা আদায় করে জেলেদের ছেড়ে দেন।
এর আগে সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পদ্মা নদীর রাজরাজেশ্বর এলাকায় নৌ পুলিশের টহল দলের ওপর একদল জেলে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এসময় কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা থেকে জেলেরা নৌ-পুলিশের স্পিডবোট লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় অভিযানে অংশ নেয়া চাঁদপুর নৌ-থানার ওসি কবির হোসেন খান স্পিডবোট যোগে তার দলবল নিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন। এতে কেউ আহত হননি।
এদিকে অভিযানে অংশ নিয়ে চাঁদপুরের পদ্মা, মেঘনা নদীতে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়ে যে কোনো মূল্যে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, আজ শনিবার রাতেই ভরা পূর্ণিমা শেষ হচ্ছে। তাই এই সময় মা ইলিশ শেষবারের মতো ডিম ছাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নদীতে তাদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান তিনি। শনিবার রাত ১১টায় জেলা প্রশাসক এই অভিযান থেকে ডাঙায় ফিরে এলেও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে রাতভর অভিযান অব্যাহত থাকে। এসময় বিপুল পরিমাণ জাল জব্দ করে পরে তা আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর থেকে আগামি ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণে নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসময় ইলিশ বিক্রি, পরিবহন ও মজুদও নিষিদ্ধ থাকবে।
০২ নভেম্বর, ২০২০।