চাঁদপুরে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল

শায়খে চরমোনাইর উপর হামলার প্রতিবাদ ও সিইসির পদত্যাগ দাবিতে

এস এম সোহেল
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা নেতৃবৃন্দ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাই মুখ্য। কিন্তু বর্তমান সরকার নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বারবার একটি নিরপেক্ষ জায়গায় পক্ষপাতদুষ্ট কমিশন নিয়োগ দিচ্ছেন। যারা ইনিয়ে-বিনিয়ে জাতিকে ধোঁকা দিয়ে বারবার প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন করে চলছে। বর্তমান কাজী হাবিবুল আউয়াল-এর নেতৃত্বাধীন কমিশন অতীতের সব নির্লিপ্ততা পিছনে ফেলে ইতোমধ্যে মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ জুন) বিকেলে শহরের বায়তুল আমিন শপথ চত্বরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমীরের উপর হামলা ও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন।
চাঁদপুর জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদসানীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ইসলামী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি মাও. নুরুল আমিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফেজ মাও. মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, সহ-সভাপতি মাও. গাজী হানিফ, নির্বাহী সদস্য মাও. যোবায়ের আহমাদ, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাও. বেলাল হোসাইন রাজি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজামাল গাজী সোহাগ, প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাও. হেলাল আহমাদ, সহকারী প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক এইচ.এম নিজাম, অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক মামুনুর রশিদ বেলাল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাও. নুরুদ্দীন, ডা. বেলাল হোসাইন, মাও. আফসার উদ্দিন, মাও. আনসার আহমাদ, এম এ মতিন, মুফতি আবু নাঈম তানভীর, শ্রমিক নেতা মাও. আবুল বাশার তালুকদার, শিক্ষক নেতা মাও. আনোয়ার আল নোমান, যুবনেতা হাফেজ শাহাদাত হোসাইন, হাবিবুর রহমান, ছাত্রনেতা মুহাম্মদ সেলিম হোসাইন প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে শেখ মুহাম্মদ জয়নাল আবদিন বলেন, শায়খে চরমোনাইকে নিয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কা-জ্ঞানহীন ও ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যে আমরা বিস্মিত ও হতবাক। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করছি।
জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি মাও. মাকসুদুর রহমান বলেন, তিনি কি ইন্তেকাল করেছেন? শায়েখে চরমোনাইকে নিয়ে এমন কা-জ্ঞানহীন বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বের সাথে চরম বেমানান। এমন বক্তব্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ইতোমধ্যে সিইসির এমন বক্তব্যেকে সচেতনমহল পাগলের প্রলাপ বলে অবিহিত করেছেন।
জেলা সেক্রেটারি কেএম ইয়াসিন রাশেদসানী সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সিইসিকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় দেশের জনগণ ব্যর্থ ও অযোগ্য সিইসিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
বক্তারা বলেন, আওয়ামী হায়েনারা ক্ষমতার মোহে পাগল হয়ে সন্ত্রাসের পথ বেঁচে নিয়েছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আজ সারা দেশের মানুষ ফুঁসে ওঠেছে। এখনো সময় আছে ক্ষমতা ছেড়ে জাতীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দিন। অন্যথায় পালানোর পথও খোঁজে পাবেন না।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের হাসান আলী লেকেরপাড় স্টেডিয়াম রোড হয়ে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

১৭ জুন, ২০২৩।