চাঁদপুরে এলজিএসপি-৩ প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা

আমি কারো অনিয়মের দায়িত্ব নিব না
…..জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেছেন, সরকারের যতো উন্নয়ন হয় তা সব ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেই হচ্ছে। তৃণমূল জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ কাজ করছে। উন্নয়ন সহযোগিতার সব কাজগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। মঙ্গলবার (১৪ জুন) চাঁদপুরে এলজিএসপি-৩ প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি পর্যালোচনা বিষয়ক জেলা সমন্বয় সভায় প্রধান অতথিরি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। পরিষদের মাধ্যমে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হবে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হবে সে প্রকল্প যাতে টেকশন ও মজবুত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ইউপি চেয়ারম্যানরা সব কাজগুলো মনিটরিং করবে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের যখন ব্রিজ-কালভার্ট হয় তখন তা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়ে করতে হবে। বছরের প্রতিটি সময় যাতে খাল-বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন করতে পারে বিষয়টি দেখতে হবেভ অদূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের তা করতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি বলনে, প্রধানমন্ত্রী টেকসই ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে চিন্তা নিয়ে এগুচ্ছেন, কাজ করছেন, সে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। সরকারের যাতে কোন প্রকল্পে বদনাম না হয়, সেটি মাথায় রেখে এগুতে হবে। মাদক, সন্ত্রাসসহ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার থাকতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদ এখন উন্নয়নের রুপরেখায় পরিণত হচ্ছে। সরকারের দেওয়া গ্রামের সুবিধা সুষমভাবে করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, টিউবওয়েল, রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট, ভিজিডি-ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সব কাজগুলো জনগণের কল্যাণে আসতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য জনগণের চাহিদা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনা করতে হবে। জনগণ কিভাবে উপকার পায়, সেভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। সঠিক চিন্তা-চেতনা নিয়ে কাজ করলে আমাদরে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বাংলাদেশে এখন দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে। এক সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পয়িন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সে দুর্নীতি লাগাম টেনেছেন। এখন বাংলাদেশ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি নির্মূল করেছেন। সরকার দুর্নীতি বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, কোন মানুষরে যাতে গৃহহীন না থাকে সরকার সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সে লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। যেসব উপজেলার ইউনিয়নগুলোর সমস্যা আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে এগিয়ে যেতে হবে। যেখানে অনিয়ম থাকবে, সেখানে আমি নেই। অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছি। আমি কারো কোন প্রকার অনিয়মের দায়িত্ব নিব না। আমি যেখান থেকে দায়িত্ব নিয়েছি সেখান থেকেই শুরু করবো। সবাই মিলে-মিশে কাজ করলে একটি আধুনিক চাঁদপুর করা সম্ভব হবে, উন্নত জেলা হবে চাঁদপুর।
তিনি বলেন, আপনারা জনপ্রতিনিধিরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই জনগণের উত্তম সেবা করা আপনাদের দায়িত্ব। জনগণের সেবা করার সুযোগ নিয়েই জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। সে লক্ষ্যে নিয়েই সব সময় কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যানদের অনেক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ন্যায় ও আর্দশের মধ্যে থেকে সততার সাথে কাজ করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করতে হলে দুর্নীতি দূর করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জেলো প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ডিস্ট্রিক ফ্যাসলিটিটের রিয়াজ উদ্দিন সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখনে স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী কমিশনার আবিদা সিফাত, রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটোয়ারী, রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারী, আশিকাটি ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসনে পাটোয়ারী, মৈশাদী ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম পাটোয়ারী, বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিক উল্লাহ পাটোয়ারী, ইব্রাহিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ কাশিম খান, হানারচর ইউপি চেয়োরম্যান আবদুস সাত্তার ঢারী, তরপুরচন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান ইমাম হাসান রাসেল গাজী, বাকিলা ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রমুখ।
এসময় জেলার প্রতিটি উপজেলা চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

১৫ জুন, ২০২২।