চাঁদপুরে করোনা আতংকে ফাঁকা হচ্ছে হাট-বাজারগুলো

প্রশাসনের কার্যকরী পদক্ষেপে সচেতনমহলের কৃতজ্ঞতা



মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের মাঝে আতংক বাড়ছে। বিশেষ করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় এবং প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে মানুষের মাঝে অনেকটা সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সারা দেশের মতো চাঁদপুরেও প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে সবাই প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে শুরু করেছেন জেলার নাগরিকেরা। বিশেষ করে ব্যক্তি ও পারিবারিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু হয়েছে চাঁদপুরসহ উপজেলা শহরগুলো (হাট-বাজার) এবং গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার।
খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া সারাদিন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। আর কর্মজীবী মানুষ বাইরে বের হলেও তাদের চোখমুখে আতঙ্কের ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের মাস্ক ব্যবহার করছেন। গণপরিবহনের সংখ্যাও কিছুটা কমে এসেছে এবং হাট-বাজারেও জনসমাগম কমছে।
অবশ্য যেদিন থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণগুলো বন্ধ করার ঘোষণা এসেছে, তার পরের দিন (১৭ মার্চ) থেকেই হাট-বাজারে জনসমাগম কম দেখা গেছে। যদিও ১৮ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়েছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বল্প পরিসরে প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর উদ্বোধন ও জাতীয় শিশু দিবস পালন করে।
এতে করে প্রতিষ্ঠানমুখী ছিলো না শিক্ষার্থীরা। যার ফলে ১৭ মার্চ থেকে জনসমাগম অনেকটা কমে যায়। সন্তানের লেখাপড়ার জন্য যেসব পরিবার চাঁদপুরসহ উপজেলা শহরগুলোতে বসবাস করছিলেন, স্কুল-কলেজ ছুটি থাকায় তাদের মধ্যে অনেকেই ধীরে ধীরে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।
এছাড়া হোম কোয়ারেন্টাইন না মানায় বৃহস্পতিবার হাজীগঞ্জে ইতালি ও আমেরিকা থেকে আসা দুই প্রবাসীকে ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা, শুক্রবার চাঁদপুরে ওমান থেকে আসা এক প্রবাসীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, কচুয়ায় মালেশিয়া থেকে আসা এক প্রবাসীকে ২০ হাজার এবং সৌদি আরব থেকে আসা অপর এক প্রবাসীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন স্ব-স্ব উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
উল্লেখিত জরিমানার সংবাদ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের মাঝেও সচেতনতা দেখা গেছে। তাছাড়া গত ১৯ মার্চ থেকে ওয়াজ-মাহফিল, সভা-সমাবেশসহ সব ধরনের জনসমাগমমূলক সব কর্মসূচি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে উপজেলা প্রশাসন থেকে পৌরসভা ও ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ওয়ার্ড (পৌরসভা ও ইউনিয়ন) ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক রেসপন্স কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অপরদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জেলার সব উপজেলার মধ্যে অবস্থিত পৌরসভা ও ইউনিয়নে করোনা ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকার জন্য প্রচারপত্র বিলি করেছে জেলা প্রশাসন, স্ব-স্ব উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং মসজিদে মসজিদে জুমআর খুতবায়ও করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখছেন ইমামরা। বিভিন্ন মসজিদে হচ্ছে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন।
সংক্রমন প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতসহ তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রশাসন কর্তৃক জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে ১০০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া অতিরিক্ত হিসেবে প্রত্যেক উপজেলায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদেশ থেকে কেউ দেশে ফিরলে তার ব্যাপারে অবশ্যই জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনকে তথ্য জানানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি তদারকি করছেন জেলা প্রশাসক ও স্ব-স্ব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাস নিয়ে ‘আতংক’ নয় ‘সতর্ক’ থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ গ্রহণকৃত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কোন প্রবাসী নির্দেশনা অমান্য করলে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা এবং সংক্রামক ব্যাধি আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতা ও সতকর্তামূলক সবধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আামরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। দেশের মানুষ ভালো থাকুক। এ সময় তিনি করোনা সম্পর্কে আতঙ্কিত না হয়ে, সচেতন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।