চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নেই!

আজ সবকিছু খুলছে, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের তাগিদ

ইলশেপাড় রিপোর্ট

চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি এখনো উন্নতি হয়নি। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যু অব্যাহত আছে। এদিকে চলমান কঠোর লকডাউন শেষ হয়েছে মঙ্গলবার (১০ আগস্ট)। আজ বুধবার থেকে সবকিছু খুলছে আগের মতো। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তার আগাম কোন ধারণা কেউ দিতে পারছেন না।

তবে জেলার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সতর্কতার সাথে সবাই স্বাভাবিক চলাফেরা করলে হয়তো করোনা পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সাবাই যেন ভ্যাকসিনের আওতায় আসে সেদিকে নজর দেওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে চাঁদপুরের করোনা পরিস্থিতি যে অনেকটাই নাজুক সেজন্য ইতোমধ্যেই জেলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালকে ৩৫০ শয্যার ঘোষণা করছে কর্তৃপক্ষ। যদি পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকে তাহলে তাহলে ফিল্ড হাসপাতালের আগামি প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন সংশ্লিষ্টরা, বলে জানা গেছে।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, গত সোমবার এ জেলায় ১শ’ ৮৫ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। ঐ দিন ৬শ’ ১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিলো। পরীক্ষার বিপরীতে ৩০ শতাংশ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ জনের করোনা পজিটিভ ছিলো। বাকি দুইজনের ছিলো উপসর্গ। এ পর্যন্ত চাঁদপুরে দু’শতাধিক করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসেলেশন ওয়ার্ডে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গতকাল সারা দেশে  করোনায় রেকর্ড সর্বোচ্চ ২শ’ ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ১শ’ ৬৪ জনের। পরিস্থিতি যে এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তা অনেকটাই অনুমান করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আজ থেকে সব কিছু খুলছে আগের মতোই।

অপরদিকে শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর থেকে লঞ্চ চলাচলের প্রস্তুতি নিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ের এক সভায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, বুধবার থেকে শতভাগ আসনে যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল করবে। পাশাপাশি লঞ্চের বাড়তি ভাড়া প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।

আজ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সব কিছুই খোলা থাকবে। প্রজ্ঞাপনের এই আটটি শর্তের মাধ্যমে সব সবকিছু খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তা হলো:

১. সব সরকারি/আধা-সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/বেসরকারি অফিস, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩ সড়ক, রেল ও নৌপথে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন/যানবাহন চলাচল করতে পারবে। তবে সড়ক পথে গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন নিজ নিজ অধিক্ষেত্রের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সংশ্লিষ্ট দফতর/সংস্থা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিদিন মোট পরিবহন সংখ্যার অর্ধেক চালু করতে পারবে।

৪. শপিংমল/মার্কেট/দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা রাখা যাবে।

৫. সব ধরনের শিল্প-কলকারখানা চালু থাকবে।

৬. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

৭. সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রণীত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

৮. গণপরিবহন, বিভিন্ন দফতর, মার্কেট ও বাজারসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে অবহেলা পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব বহন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, কেবল বন্ধ থাকবে পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো।

১১ আগস্ট, ২০২১।